ডেস্ক রিপোর্ট

১৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ

সিলেটের শাহপরানে সিপিবির সমাবেশ

আপডেট টাইম : জানুয়ারি ১৯, ২০২৩ ১:১৬ পূর্বাহ্ণ

শেয়ার করুন

সিলেট প্রতিনিধি: বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)  শাহপরাণ থানা শাখার উদ্যোগে বুধবার ১৮ জানুয়ারি ২০২৩ বুধবার বিকেল ৩টায় শাহপরাণ গেইটে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

গ্যাস, বিদ্যুৎ, ঔষধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার প্রতিবাদে এবং ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তদারকি সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা এবং সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করা, পাচার হওয়া টাকা ও খেলাপী ঋণ আদায়সহ এর সাথে জড়িতদের শ্বেতপত্র প্রকাশ করা, চা-শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি অবিলম্বে পরিশোধ করা এবং চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা, রেশন ব্যবস্থা ও ন্যায্যমূল্যের দোকান চালু করা, দেশে সাম্রাজ্যবাদী ও বিদেশি হস্তক্ষেপ বন্ধ করার দাবিতে এ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) শাহপরাণ থানা শাখার নেতা কমরেড এনায়েত হাসান মানিক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশ সঞ্চালনা করেন ছাত্রনেতা মাশরুক জলিল। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিপিবি সিলেট জেলা কমিটির নেতা কমরেড ডা. বীরেন্দ্র চন্দ্র দেব, সিপিবি সিলেট জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড খায়রুল হাসান, সিপিবি শাহপরাণ থানা শাখার সম্পাদক কমরেড তুহিন কান্তি ধর, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী সিলেট জেলা সংসদের সহ-সভাপতি রতন দেব, যুব নেতা শাহজাহান কবির শাকিল, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলা সংসদের আহবায়ক মনীষা ওয়াহিদ প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরুলেও আজ দেশে নানা ধরণের অস্থিরতা বিরাজ করছে। ভোজ্য তেল, চাল, ডাল, চিনি, সার, বীজ, ঔষধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম লাগামহীনভাবে বেড়েই চলেছে। শ্রমিক কৃষকসহ সাধারণ খেটেখাওয়া মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। এ ব্যাপারে সরকারের যেনো কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। তদুপরি জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের নামে সরকার বাড়িয়েই চলেছে। এ অবস্থায় রেশন ব্যবস্থা ও ন্যায্যমূল্যের দোকান চালু করার জন্য বক্তারা আহবান জানান।

বক্তারা বলেন, ব্যংকের টাকা পাচার হয়ে বিদেশে বেগমপাড়া গড়ে উঠছে। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ধনিক শ্রেণির লোকেরা তা পরিশোধ করছে না। অথচ পাঁচ–দশ হাজার টাকার কৃষি ঋণের জন্য গরিব কৃষকদের হয়রানি করা হচ্ছে। ঘোষণা দিয়েও এদেশের সবচেয়ে অবহেলিত বঞ্চিত চা-শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধ করা হচ্ছে না। বারবার দাবি জানানো সত্বেও চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে না। বিদেশে পাচার হওয়া টাকা ও খেলাপী ঋণ আদায়ের মাধ্যমে এর সাথে জড়িতদের শ্বেতপত্র প্রকাশ করে দোষিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও বক্তারা আহবান জানান।

বক্তারা আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচন যতোই এগিয়ে আসছে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চুরি ডাকাতি ছিনতাইসহ সার্বিক অস্থিরতা বাড়ার পাশাপাশি সাম্রাজ্যবাদী ও বিদেশি হস্তক্ষেপ সকল শিষ্টাচার ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তদারকি সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে এবং সকল প্রকার বিদেশি হস্তক্ষেপ বন্ধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বক্তারা জোর আহবান জানান।

শেয়ার করুন