ডেস্ক রিপোর্ট

১৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১০:০২ অপরাহ্ণ

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি অযৌক্তিক ও গণবিরোধী : বাম গণতান্ত্রিক জোট

আপডেট টাইম : জানুয়ারি ১৯, ২০২৩ ১০:০২ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক: গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি অযৌক্তি ও গণবিরোধী মন্তব্য করে বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, এতে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।

বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারি বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবি’র সভাপতি কমরেড শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক কমরেড ইকবাল কবীর জাহিদ, বাসদ (মার্ক্সবাদী)’র সমন্বয়ক মাসুদ রানা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশফো মিশু ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সভাপতি হামিদুল হক সংবাদপত্রে দেয়া এক বিবৃতিতে এই মন্তব করেছেন।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশি বিদেশি লুটেরা গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষাকারী শাসকেরা একবার দেশ গ্যাসের উপর ভাসছে বলে গ্যাস পাচার করতে চেয়েছিল, আবার সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের মুনাফার স্বার্থে স্থলভাগ ও সাগরের গ্যাস অনুসন্ধান-উত্তোলনে কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে এলএনজি আমদানীর সিদ্ধান্ত নেয়। এখন আবার আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বেশি থাকার অজুহাতে গ্যাসের দাম বাড়িয়ে জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি করছে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান সরকার মহা ধুমধাম করে সাগর জয়ের কৃতিত্ব জাহির করলেও সাগরের গ্যাস উত্তোলনের কোন উদ্যোগই নেয়নি। অথচ আমাদের সীমান্তে মায়ানমার এবং ভারত একই গ্যাস প্লেটে তাদের গ্যাস উত্তোলন করছে। যাতে করে আমাদের অংশের গ্যাস তারা টেনে নিয়ে যেতে পারে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ আশংকা করছে। কিন্তু সরকারের এদিকে কোন ভ্রæক্ষেপ নাই।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, আমাদের জাতীয় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধিরও কোন সরকারি উদ্যোগ নাই। ভোলার গ্যাস ক্ষেত্র প্রায় তিন যুগ আগে আবিষ্কৃত হওয়ার পরও এখনও পর্যন্ত ঐ গ্যাস উত্তোলন করে জাতীয় গ্রীডে আনার সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। গ্যাস কি নদীর তলদেশে টানেল করে আনবে না কি এলএনজি করে আনবে এই সিদ্ধান্ত বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে। তাছাড়াও আমাদের বাপেক্স পেট্রোবাংলাকে কুপ খনন করতে না দিয়ে রাশিয়ান কোং গ্যাজপ্রমকে ইজারা দিয়েছে। অথচ গ্যাজপ্রম আবার আমাদের বাপেক্সকে সাবকন্ট্রাক দিয়ে কাজ করাচ্ছে।
বর্তমান সরকার গত ১৪ বছরে ৯ বার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করলো। এবার বিইআরসির ক্ষমতা খর্ব করে নির্বাহী আদেশে দাম বৃদ্ধি করেছে। যা সরকারের জবাবদিহিহীনতার চরম বহিঃপ্রকাশ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, গত ৭ দিন আগে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে, এবারে গ্যাসের দাম বাড়ালো, গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বাড়বে ফলে আবার বিদ্যুতের দাম বাড়াবে। এভাবে চক্রবৃদ্ধিকারে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে সরকার সকল পণ্যের দাম বৃদ্ধি করে জনগণের বেঁচে থাকাকেই দায় করে তুলছে।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির অযৌক্তিক ও গণবিরোধী সিদ্ধান্ত প্রত্যারের জোর দাবি জানান।

শেয়ার করুন