ডেস্ক রিপোর্ট
৮ জানুয়ারি ২০২৩, ১:১৩ পূর্বাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক: ফ্যাসিবাদী সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়া, সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থা চালু, ৫টি পাটকলের শ্রমিকসহ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা ও বন্ধ সকল রাষ্ট্রায়ত্ত মিল অবিলম্বে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় চালু, দুর্নীতিবাজ ও লুটপাটকারীদের গ্রেফতার ও অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা এবং রেশনিং ও ন্যায্যমূল্যের দোকান চালু প্রভৃতি দাবিতে বাম গণতান্ত্রিক জোট খুলনা জেলা শাখার উদ্যোগে আজ বিকাল ৪টায় খালিশপুর শিল্পাঞ্চলে পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস গেট থেকে নতুন রাস্তা মোড় পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পদযাত্রায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় নেতা ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কমরেড ইকবাল কবির জাহিদ এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় সম্পাদকম-লীর সদস্য কমরেড নিখিল দাস।
বাম গণতান্ত্রিক জোট খুলনা জেলা কমিটির সমন্বয়ক ও বাসদ খুলনা জেলা আহ্বায়ক কমরেড জনার্দন দত্ত নান্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য রাখেন সিপিবি খুলনা জেলা সাধারণ সম্পাদক কমরেড এস এ রশীদ, কমিউনিস্ট লীগ খুলনা জেলা সদস্য ও ইস্টার্ন জুট মিলের বারবার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক খান, সিপিবি খুলনা জেলা সম্পাদকম-লীর সদস্য এইচ এম শাহাদাৎ, মিজানুর রহমান বাবু, কমিউনিস্ট লীগ খুলনা জেলা সদস্য আনিুুর রহমান মিঠু, মোস্তফা খালিদ খসরু, কাজী দেলোয়ার, বাসদ খুলনা জেলা সদস্য সচিব কোহিনুর আক্তার কণা, সদস্য আব্দুল করিম, সনজিত মন্ডল, সিপিবি খুলনা মহানগর নেতা এস এম চন্দন, বীর মুক্তিযোদ্ধা নিতাই পাল প্রমুখ।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ আধুনিকায়ন করে রাষ্ট্রীয় খাতে পাটকল চালু এবং ৫টি পাটকলসহ শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবি জানিয়ে বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অর্জন। এই অর্জন যারা রক্ষা করতে পারে না তাদের মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা মানায় না। তাঁরা বলেন, বিএনপি সরকারের সময় আদমজী পাটকল বন্ধ করা হোল আর আওয়ামী লীগের সময় অবশিষ্ট রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ করা হোল। এরা সবাই দেশ ও শ্রমিকের স্বার্থবিরোধী অবস্থান নিয়ে লুটেরাদের স্বার্থ রক্ষা করে চলেছে। এদের লক্ষ্য পাটকলের জমি ও যন্ত্রপাতি লুটপাট করা। তিনি বলেন, দেশে ও সারা বিশ্বে পরিবেশবান্ধব পাট ও পাটজাত পণ্যের চাহিদা বেড়ে চলেছে। এর সুবিধা ভোগ করছে বেসরকারি ব্যবসায়িরা। এরা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি দেয় না। অথচ সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা নেয়।
নেতৃবৃন্দ পাটকলসহ সর্বত্র জাতীয় নূ্যূনতম মজুরি বিশ হাজার টাকা ও সার্বজনীন রেশন ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান।
চলমান ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের অবসানের লক্ষ্যে ও দুর্নীতিবাজ, লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, জালিয়াতি করে, দিনের ভোট রাতেই প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় করিয়ে নিয়ে অনৈতিকভাবে সরকার ক্ষমতায় আছে। ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখার প্রয়োজনে তাদের দমন-পীড়ন এবং দুঃশাসন চরম রূপ নিয়েছে। জনগণের যেকোন প্রতিবাদকে পুলিশ প্রশাসন এবং দলীয় মাস্তান দিয়ে দমন করছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দিয়ে মানুষের মত প্রকাশের অধিকার হরণ করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কেবল বামপন্থীরাই জনগণের একমাত্র ভরসা।
তাই আওয়ামী ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের অবসান ঘটাতে এবং সংখ্যাানুপাতিক নির্বাচনসহ নির্বাচন ব্যবস্থার আমুল সংস্কার করে জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতৃত্বে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান নেতৃবৃন্দ।