ডেস্ক রিপোর্ট
১১ নভেম্বর ২০২২, ৫:৫৮ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: ‘বিকল্প গড়ে তুলুন, সমাজতন্ত্রের সংগ্রাম বেগবান করুন’ এই আহ্বানকে সামনে রেখে বাসদের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ১০৫তম নভেম্বর বিপ্লববার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ মাগুরা জেলা শাখার উদ্যোগে আজ শুক্রবার, ১১ নভেম্বর বিকাল সাড়ে ৩টায় আতর আলী পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লাল পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মাগুরা জেলা শাখার আহ্বায়ক প্রকৌশলী শম্পা বসু।
আলোচনা করেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য জনার্দন দত্ত নান্টু, ঝিনাইদহ জেলা শাখা আহ্বায়ক এড. আসাদুল ইসলাম আসাদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি মাগুরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এটিএম আনিসুর রহমান ও বাসদ মাগুরা জেলা শাখার সদস্য আব্দুর সাত্তার। সভা পরিচালনা করেন বাসদ মাগুরা জেলা শাখার সদস্য সচিব ভবতোষ বিশ্বাস জয় ।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন অদ্বিতীয়া আইচ তুলি, পূর্ণিমা মন্ডল, তনুশ্রী আইচ।
বক্তাগণ বলেন, ১৯৮০ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের মেহনতি শ্রমজীবী মানুষের শোষণমুক্তির প্রত্যয় নিয়ে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ ৪২ বছরের পথ চলতে গিয়ে দলকে বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ নানা ঘাত-প্রতিঘাত, প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করতে হয়েছে। জন্মলগ্ন থেকেই বাসদ দেশের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী আন্দোলন, জাতীয় সম্পদ রক্ষার আন্দোলনসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সঠিক দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে শিক্ষা আন্দোলন গড়ে তোলা, অর্থনীতিবাদী ধারার বিপরীতে সঠিক বিপ্লবী ধারার ট্রেড ইউনিয়ন সংগ্রাম, চাষি আন্দোলন গড়ে তোলায় নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বুর্জোয়া ধারার বিপরীতে বাম ধারাকে শক্তিশালী করতে বাস্তব অবস্থার বাস্তব বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সব সময়ে আন্দোলনে শক্তি সমাবেশ ঘটানোর প্রয়াস চালিয়ে আসছে।
বক্তাগণ আরও বলেন, ৭ নভেম্বর পৃথিবীর ইতিহাসে শ্রমিকশ্রেণির কাছে আরও একটি স্মরণীয় দিন। আজ থেকে ১০৫ বছর আগে ১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর রাশিয়ায় কমরেড ভ. ই. লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিক পার্টি এক শ্রমিক বিপ্লব সংগঠিত করেছিল। যে বিপ্লবে দুনিয়ায় প্রথম শ্রমিকশ্রেণি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে সমাজতন্ত্র কায়েম করেছিল, সভ্যতার এক অবিস্মরণীয় উল্লম্ফন ঘটেছিল। সমাজতন্ত্র ব্যক্তি মালিকানার সমাজ বদলে সামাজিক মালিকানার সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিল। সকল নাগরিকের ভাত, কাপড়, শিক্ষা, চিকিৎসা, কাজ ও বাসস্থানের নিশ্চয়তা বিধান করেছিল। সমাজ থেকে ভিক্ষুক, বেকার দূর করেছিল। নারী-পুরুষের সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছিল। শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, খেলাধুলায় সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের উন্নয়ন গোটা পুঁজিবাদী দুনিয়াকে চমকে দিয়েছিল।
আলোচনা সভা থেকে মূল্যবৃদ্ধি, দুর্নীতি, দুঃশাসন রুখে দাঁড়ানো; গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং সমাজতন্ত্রের সংগ্রাম বেগবান করার আহ্বান জানান হয়।