ডেস্ক রিপোর্ট
৯ নভেম্বর ২০২২, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: বাসদের ৪২তম ও রুশ নভেম্বর বিপ্লবের ১০৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে রংপুর জেলা বাসদের উদ্যোগে বুধবার দুপুর ১টায় শাপলা চত্বর থেকে লাল পতাকা, ব্যানার,ফেস্টুন সম্বলিত একটি বিশাল র্যালি শুরু হয়ে নগরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে হয়ে পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে উপস্থিত হয়।
মহানগর চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বিকাল ৩টায় জনসভা শুরু হয়।এতে সভাপতিত্ব করেন রংপুর জেলা বাসদের আহবায়ক কমরেড আব্দুল কুদ্দুস । প্রধান বক্তা ছিলেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বামজোটের শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ। জেলা সদস্য সচিব মমিনুল ইসলামের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাসদ জেলা সদস্য কমরেড আতিয়ার রহমান, অমল সরকার, মাজেদুল ইসলাম দুলাল, যুগেশ ত্রিপুরা, মিজানুর রহমান প্রমুখ।
সভায় কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, আজ থেকে ১০৫বছর আগে রাশিয়ায় নভেম্বর বিপ্লব সারা পৃথিবীর মানুষকে দেখিয়ে দিয়েছিল একটি শোষণ – বৈষম্যহীণ, ক্ষুধা-দারিদ্র মুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ।একে একে সমাজ থেকে বেকারত্ব, ভিক্ষাবৃত্তি পরাভূত হয়ে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল একটি মানবিক সমাজ। মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা সকলের জন্য শিক্ষা,স্বাস্থ্য, বাসস্থান সর্বোপরি শোষণ-বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে ১৯৮০ সালে কমরেড খালেকুজ্জামান বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ প্রতিষ্ঠা করেন।প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ দল জাতীয় সম্পদ , পরিবেশ-প্রকৃতি রক্ষা, কৃষক, ক্ষেতমজুর,শ্রমিকসহ নানা শ্রেণীপেশার মানুষের জন্য লড়াই করে আসছে।আজ পুজিবাদী দুঃশাসন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যারা উৎপাদন করে এদেশকে টিকিয়ে রাখছে তারা কোনভাবেই আর চলতে পারছে না। কৃষকরা উৎপাদন করছে অথচ খরচ তুলতে পারছে না। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে শ্রমজীবী গরীব মানুষ দিশেহারা। ঋণনির্ভর অযাচিত মেগা প্রকল্প ও ঘুষ-দুর্নীতি বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।আঞ্চলিক বৈষম্যের কারণে খাদ্য ভান্ডার হওয়া সত্বেও বৃহত্তর রংপুরে নেই কোন কল- কারখানা। নদী ভাঙন,বন্যা ফসলহানিতে বেকার সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় এই নগরে ভূমিহীন-গৃহহীন মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন প্রায় ২বছর ধরে ভূমিহীন দের আবাসন সংকট নিরসনে স্মারকলিপি পেশ, বিক্ষোভ মিছিল, ঘেরাও করেও কার্যকর কোন পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়নি। বক্তারা অবিলম্বে শ্রমজীবীদের আবাসন সংকট নিরসন, শ্রমজীবীদের রেশন,নিত্যপণ্যের সহনীয় দাম,নির্দলীয় তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানান। পাশাপাশি এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে জনগণকে সমাজতন্ত্রের লড়াই বেগবান করার আহবান জানান।