ডেস্ক রিপোর্ট

১ নভেম্বর ২০২২, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ

পুনর্বাসন ও রেশনের দাবিতে রংপুরে ভূমিহীনদের বিশাল জনসভা

আপডেট টাইম : নভেম্বর ১, ২০২২ ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ

শেয়ার করুন

রংপুর প্রতিনিধি:: প্রচলিত আইন সংশোধন করে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অকৃষি খাস জমিতে ভূমিহীনদের পুনর্বাসন- চাল, ডাল, তেলসহ সকল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য কমানো এবং সকল গরীব মানুষকে আর্মি-পুলিশের রেটে রেশন প্রদানের দাবিতে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে গতকাল ৩১ অক্টোবর ২০২২, সোমবার দুপুর ২টায় ভূমিহীন সংগঠনের ডাকে এক বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনের প্রধান সংগঠক আনোয়ার হোসেন বাবলুর সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য রাখেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড.তুহিন ওয়াদুদ, ভূমিহীন সংগঠনের সংগঠক এবং বাসদ(মার্কসবাদী), রংপুর জেলার সদস্যসচিব আহসানুল আরেফিন তিতু, ভূমিহীন নেতা বাবু মিয়া,আছিয়া খাতুন,কোহিনুর বেগম, নূর মোহাম্মদ, ছায়া বেগম,রুপানা বেগম প্রমূখ।

নেতৃবৃন্দ বলেন প্রচলিত আইন সংশোধন করে সিটি কর্পোরেশনের অকৃষি খাস জমিতে ভূমিহীনদের পুনর্বাসন,রেশন কার্ড প্রদানসহ তিন দফা দাবিতে রংপুরে ভূমিহীন ও গৃহহীন সংগঠনের উদ্যোগে গত ৮মাস থেকে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চলছে।সর্বশেষ ডিসি অফিস ঘেরাও, স্থানীয় এমপি ও স্পিকার বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে।কিন্তু সরকার এখনো এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেনি।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন বাসস্থান মানুষের মৌলিক অধিকার এবং তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।কিন্তু রাষ্ট্র সে দায়িত্ব পালন না করে উল্টো রেলের ধারে, খাসজমিতে যারা কোনরকম মাথা গোঁজার ঠাই করেছে তাদেরকে উচ্ছেদ করার হুমকি দিচ্ছে।হাইকোর্টের নির্দেশ অনুসারে পুনর্বাসন ছাড়া কোন বস্তি উচ্ছেদ করা যাবে না।এছাড়া কিছুদিন আগে সরকার ঘোষণা দিয়েছে কোন মানুষ গৃহহীন থাকবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন “কোথাও ভূমিহীনের খবর পেলে আমাদের জানাবেন,আমরা বাসস্থান ও কাজের ব্যবস্থা করবো”। কিন্তু রংপুরে হাজার হাজার ভূমিহীন সরকারের এই সুবিধা থেকে এখনো বঞ্চিত।এছাড়া নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে শ্রমজীবী নিম্ন আয়ের মানুষ ভীষণ সংকটে পড়েছে।জনসভা থেকে ভূমিহীন ও গৃহহীন সংগঠন নিম্নলিখিত প্রস্তাব পেশ করেন।

স্বচ্ছল,ধনী মানুষদের লীজের ভিত্তিতে ভোগ করা জমির লীজ বাতিল এবং অবৈধ দখলদারদের খাস জমি থেকে উচ্ছেদ করতে হবে।প্রত্যেক ওয়ার্ডে উক্ত জমির উপর ১হাজার পরিবার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন বহুতল ভবন নির্মাণ করে ভূমিহীনদের পুনর্বাসন করতে হবে। কালোবাজারি ও মজুতদার সিন্ডিকেট ভেঙে ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রত্যেক পাড়া-মহল্লায় ন্যায্যমূল্যের দোকান জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আওতাধীনে খুলতে হবে।প্রত্যেক গরীব পরিবারকে আর্মি -পুরিশের রেটে রেশন দিতে হবে।

অবিলম্বে এসমস্ত দাবি পূরণ করা না হলে আগামী জানুয়ারি মাসে সংসদ অভিযান কর্মসূচি পালন করা হবে।

শেয়ার করুন