ডেস্ক রিপোর্ট
১১ আগস্ট ২০২২, ৮:০২ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় ৭ দফা দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চবি শাখা।
ভর্তি পরীক্ষার সময় শাটল ট্রেনের বগি-শিডিউল বৃদ্ধি, ৩নং বাস ও দ্রুতযান সার্ভিসে বাড়তি ভাড়া নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক উদ্যোগ, খাবারের বাড়তি দাম নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক তদারকিসহ মোট ৭ দফা দাবিতে আজ বেলা ১২টায় এই স্মারকলিপি পেশ করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী প্রক্টর ড. শহীদুল ইসলাম এই স্মারকলিপি গ্রহণ করেন এবং দাবিসমূহ মেনে নেয়ার আশ্বাস দেন। স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহবায়ক ইসরাত হক জেরিন, সাধারণ সম্পাদক ঋজু লক্ষ্মী অবরোধ, সদস্য শাহ মুহাম্মদ শাহীন, শওকত হোসেন।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহবায়ক ইসরাত হক জেরিন ও সাধারণ সম্পাদক ঋজু লক্ষ্মী অবরোধ এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, আগামী ১৬-২৪ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্টিত হবে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। ভর্তি পরীক্ষায় মোট ৬টি ইউনিটে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭২৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে। দেশের দূর দূরান্ত থেকে আসা এসব শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হলেও, সেগুলোকে আমরা অপর্যাপ্ত মনে করি এবং এই সংকটগুলো শিক্ষার্থীদের সার্বিকভাবে চিন্তামুক্ত হয়ে পরীক্ষা দেয়ার ক্ষেত্রে বাঁধা হিসেবে কাজ করবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় আগত বেশীরভাগ শিক্ষার্থীরই ক্যাম্পাসে আসার ক্ষেত্রে প্রধান বাহন শাটল ট্রেন। স্বাভাবিক সময়েই শাটলের অপর্যাপ্ত বগি ও শিডিউল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য শাটল ট্রেন এক ক্লান্তিকর যাত্রার নাম। ভর্তি পরীক্ষার সময় এই শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে যায় আরো কয়েকগুণ। বগিতে ধারণক্ষমতার বেশী শিক্ষার্থী তো উঠেই, এমনকি ছাদেও তিল ধারণের জায়গা থাকেনা। ফলে যাতায়াতে বিভিন্ন দূর্ঘটনাসহ, এই ক্লান্তিকর যাত্রা শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি ভোগান্তি হয়ে দাঁড়াবে।
শাটল ট্রেনের পরেই একটা বিশাল অংশের শিক্ষার্থী বাসে করেই শহর থেকে ক্যাম্পাসে যাতায়াত করে। কিন্তু গত কয়েকবছরের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি ভর্তি পরীক্ষা আসলেই বাসগুলোতে নিয়মিত সময়ের চাইতে ২-৩ গুণ বাড়তি ভাড়া দাবি করা হয়। ক্যাম্পাসের খাবার হোটেলগুলোতেও থাকেনা খাবারের কোনো সুনির্দিষ্ট দাম। নিজেদের ইচ্ছামতো খাবারের দাম বাড়ানো হয়। যার বলির পাঠা হয় দূর দূরান্ত থেকে পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীরা। অনেক অর্থনৈতিক সংকট পেরিয়েই তারা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এই বাড়তি ভাড়া তাদের জন্য বাড়তি ভোগান্তি হয়ে দাঁড়ায়। এসব ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রয়োজনীয় তদারকি ও উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে বলে আমরা মনে করি।
ভর্তি পরীক্ষাকালীন সময়ে তীব্র গরম ও বৃষ্টিপাত উভয়ের সম্ভাবনাই রয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রামের ব্যবস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্পটে পর্যাপ্ত ভ্রাম্যমান টয়লেট ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা উচিত বলে আমরা মনে করি।
বিভিন্ন সময়েই ভর্তি পরীক্ষায় আগত শিক্ষার্থীদের র্যাগিংসহ এরকম বিভিন্ন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির শিকার হওয়ার মতো ঘটনা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। আমরা মনে করি প্রশাসনিক উদ্যোগে এসকল ঘটনা দমন করা উচিত এবং এসকল ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও লজ্জাজনক।
পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় আগত শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর টেন্ট দেয়ার অধিকার নিশ্চিত দেয়ার দাবিও জানানো হয়।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের এসকল সংকট নিরুপণের দায় প্রশাসনের। শিক্ষার্থীদের চাহিদা ও স্বার্থের কথা বিবচেনা করে এসকল দাবি মেনে নেয়ার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র আশ্বাস নয়, ভর্তি পরীক্ষার পূর্বেই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করে দাবিগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য আমরা প্রশাসনের নিকট আহবান জানাই।
৭ দফা দাবিঃ
১. ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন শাটল ট্রেনের শিডিউল ও বগি বৃদ্ধি করতে হবে।
২. ভর্তি পরীক্ষার সময় ৩ নাম্বার বাস ও দ্রুতযান সার্ভিসে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধে কার্যকর প্রশাসনিক উদ্যোগ নিতে হবে।
৩. বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে খাবার হোটেলগুলোতে খাবারের সুনির্দিষ্ট ও ন্যায্য দাম নির্ধারন করতে হবে।
৪. পরীক্ষাকালীন সময়ে অভিভাবকদের জন্য বিশ্রামের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করতে হবে।
৫. ভর্তি পরীক্ষার আগে ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত ভ্রাম্যমাণ টয়লেট ও খাওয়ার জন্য বিভিন্ন স্পটে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করতে হবে।
৬. ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন কোনো শিক্ষার্থী যাতে র্যাগিং বা এরকম কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির শিকার না হয়, সেজন্য প্রশাসনিক উদ্যোগ নিতে হবে।
৭. সংগঠনগুলোর জন্য শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় টেন্ট দেয়ার সুযোগ রাখতে হবে।