ডেস্ক রিপোর্ট

২৪ জুলাই ২০২২, ৭:৫২ অপরাহ্ণ

পাকিস্তানের পক্ষে কথা বলায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ চায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ

আপডেট টাইম : জুলাই ২৪, ২০২২ ৭:৫২ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: বাংলাদেশের পতাকা বিধি লঙ্ঘন করার অপরাধে ঢাকাস্থ পাকিস্তান হাইকমিশনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার ও পদত্যাগের দাবিতে আজ ২৪ জুলাই রবিবার বিকাল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচী পালন করেছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন এর সঞ্চালনায় উক্ত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। আরোও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালের অন্যতম সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা জহির উদ্দিন জালাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা রহুল আমিন মজুমদার, ভাস্কর্য শিল্পী রাশা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

কর্মসূচীর শুরুতে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা সদ্য প্রয়াত এ্যাড. ফজলে রাব্বী মিয়া এমপির স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “পতাকা বিধি লঙ্ঘন করে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি পাকিস্তানের ঢাকাস্থ হাইকমিশন কর্তৃক জাতীয় পতাকাকে অবমাননার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পাকিস্তান হাইকমিশনকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এবিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতজানু ভূমিকার অপরাধে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. একেএম আবদুল মোমেনকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে। সম্প্রতি তিনি পাকিস্তান প্রেমী বক্তব্য দিয়ে লাখো শহীদের রক্তের সাথে বেঈমানী করেছেন। একাত্তরে গণহত্যার অপরাধে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিচার না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের সাথে সকল ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করতে হবে। পাকিস্তানের সরবরাহকৃত গ্রেনেড দিয়ে বিএনপি-জামাত একুশে আগস্টে বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। সেই পাকিস্তান ঢাকাস্থ হাইকমিশনের বাংলাদেশ বিরোধী অপকর্মের বিরুদ্ধে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি যা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের সাথে বেঈমানী।”

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, “স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের সময়ও পাকিস্তান ক্রিকেট দল আমাদের জাতীয় পতাকাকে অবমাননা করেছিল। সম্প্রতি আবার পাকিস্তান তাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত জাতীয় পতাকাকে বিকৃত করে অবমাননা করেছে। বারবার আমাদেরকে ঢাকাস্থ পাকিস্তান হাইকমিশনের ধৃষ্টতা ও ন্যাক্কারজনক আচরণ দেখতে হচ্ছে যা কখনোই মেনে নিবে না বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। ফেসবুক পেজ থেকে সরিয়ে নিলেই হবে না। ঢাকাস্থ পাকিস্তান হাইকমিশনকে অবশ্যই বাংলাদেশের জনগণের নিকট এধরনের ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ডের জন্য আনুষ্ঠানিক ভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। পাকিস্তান হাইকমিশন বাংলাদেশের পতাকা বিধি লঙ্ঘন করে দেশের প্রচলিত আইন ও সংবিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাকে বারবার অবমাননা করা হচ্ছে। একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত উদ্দেশ্যে খুঁজে বের করে পাকিস্তান হাইকমিশনকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। একাত্তরে পরাজিত হওয়ার প্রতিশোধ নেয়ার জন্যই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের নানাবিধ ষড়যন্ত্র এখনো চলমান রয়েছে। পাকিস্তান হাইকমিশনের এমন ধৃষ্টতায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতজানু মনোভাবের কারণে তাদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এবিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবশ্যই তাদের অবস্থান জাতির সামনে পরিস্কার করতে হবে। গতবছর পাকিস্তান ক্রিকেট দল বাংলাদেশের পতাকা বিধি লঙ্ঘন করেছিল। এর আগেও ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ সফরে এসে পাকিস্তান ক্রিকেট দল বাংলাদেশকে কটাক্ষ করেছিল। বাংলাদেশে জঙ্গি অর্থায়ন, জাল মুদ্রা তৈরী, বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসের মদদদাতা হিসেবে পাকিস্তান কাজ করে যাচ্ছে। একাত্তর সালে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর নৃশংসতা আমরা ভুলে যায়নি। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী নারকীয় গণহত্যা, লুটপাট ও গণধর্ষণ চালিয়েছিল। সেই স্বাধীন বাংলাদেশে জাতীয় পতাকাকে আবার অবমাননা করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসররা চরম ধৃষ্টতা দেখিয়েছে যা মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের জন্য চরম অবমাননাকর। একাত্তরের গণহত্যা ও গণধর্ষণের অপরাধে পাকিস্তান ও তাদের সেনাবাহিনীর বিচার না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের সাথে সকল ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করতে হবে।একাত্তরের গণহত্যা ও গণধর্ষণের মতো ঘৃণিত অপরাধকে অতীত মনে করে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ভুলে গেলেও এদেশের ৩০ লক্ষ শহীদের পরিবার ও বীরাঙ্গনারা কখনোই ভুলে যাবেন না। একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক তৈরীর পূর্বে নৃশংস গণহত্যা ও গণধর্ষণের বিচার করতে হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে তার পাকিস্তান প্রেমী বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির সামনে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে এবং পাকিস্তানের সাথে সকল ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণা দিতে হবে। অন্যথায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পাকিস্তান হাইকমিশন ঘেরাওসহ দেশব্যাপী আরোও কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করবে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।”

বীর মুক্তিযোদ্ধা জহির উদ্দিন জালাল বলেন বলেন, “পতাকা বিধি লঙ্ঘন করে পাকিস্তান হাইকমিশন কর্তৃক জাতীয় পতাকাকে অবমাননা করা হয়েছে। এধরণের ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতজানু বক্তব্য আমাদেরকে হতাশ করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে অবশ্যই দেশের জনগণের নিকট জবাবদিহি করতে হবে। একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি পাকিস্তান এখনো বাংলাদেশকে মেনে নিতে পারেনি। স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে পাকিস্তান কর্তৃক সংবিধান ও আইন লঙ্ঘন আমরা কখনোই মেনে নিবো না। একাত্তরে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানকে পরাজিত করে আমরা এদেশ স্বাধীন করেছি। অস্ত্র জমা দিয়েছি কিন্তু ট্রেনিং জমা দেয়নি। প্রয়োজনে আবার আমরা মাঠে নেমে পাকিস্তান হাইকমিশনকে সমুচিত জবাব দিবো। পররাষ্ট্র মন্ত্রী তার পাকিস্তান প্রেমী বক্তব্য দ্রুত প্রত্যাহার করে ক্ষমা না চাইলে বীর মুক্তিযোদ্ধারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচী পালন করবে।”

সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ বলেন, “পাকিস্তান হাইকমিশনের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতজানু বক্তব্য প্রমাণ করে তারা এধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা সমর্থন করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাকিস্তান হাইকমিশনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে প্রয়োজনে আমরা আইনী পদক্ষেপ নিবো। স্বাধীন বাংলাদেশে একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি পাকিস্তানের ধৃষ্টতা কখনোই মেনে নিবে না বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।”

বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন মজুমদার বলেন, “পাকিস্তান ইস্যুতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে ওনি পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী। ওনি কোন অতীত ভুলে যেতে চান। পররাষ্ট্র মন্ত্রীর নিকট একাত্তরের গণহত্যা ও গণধর্ষণের অপরাধ অতীত মনে হলেও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিকট অতীত বয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট দাবি, পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে অবিলম্বে অপসারণ করুন। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবাররা তার বক্তব্যে অনেক ব্যথিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি শাসনামলে এধরণের বক্তব্য কখনোই কাম্য নয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রী তার পাকিস্তান প্রেমী বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে বীর মুক্তিযোদ্ধারা খুব শীঘ্রই তার এধরনের বক্তব্যের বিরুদ্ধে সমুচিত জবাব দিবে। ঢাকাস্থ পাকিস্তান হাইকমিশন প্রতিনিয়ত মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে নানাবিধ ষড়যন্ত্র চলমান রেখেছে। এদের সাথে সকল ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে।”

ভাস্কর্য শিল্পী রাশা বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যা ও গণধর্ষণে জড়িত পাকিস্তান নামক জঙ্গী রাষ্ট্রের ঢাকাস্থ পাকিস্তান হাইকমিশন কর্তৃক তাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাকে বিকৃত করে অবমাননা করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সরকারের নিকট দাবি, অবিলম্বে পাকিস্তান হাইকমিশনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় আমাদেরকে কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করতে হবে।”

শেয়ার করুন