ডেস্ক রিপোর্ট
২২ জুলাই ২০২২, ৮:৪০ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান নিপীড়ন বিরোধী আন্দোলনে সর্বাত্মক সংহতি প্রকাশ করে নিপীড়কদেরকে অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।
কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ ও সাধারণ সম্পাদক শোভন রহমান এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ হলের সামনেই একজন শিক্ষার্থীকে এভাবে নিপীড়ন করা হলো ৫ দিন হয়ে গেল, এখনও পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অপরাধীদেরকে শনাক্ত করতে পারলো না, এই ঘটনাটি অত্যন্ত লজ্জাজনক। বরং ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নানা পদক্ষেপ দেখে মনে হচ্ছে তারা অপরাধীদেরকে আড়াল করারই সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। অভিযোগ আছে, ঘটনার সাথে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল ও তার অনুসারীরা যুক্ত আছেন। এমনকি ঘটনা ঘটার পর তিনি ওই শিক্ষার্থীকে অভিযোগ দেওয়া থেকে বাধা প্রদানের মত চূড়ান্ত অপরাধমূলক কাজও করেছেন। ঘটনা ঘটার পরই প্রশাসনের প্রথম ভূমিকা অপরাধীকে খোঁজা ছিল না, ছিল একটি নোটিস জারি করে রাত ১০ টার পর মেয়েরা হলে ঢুকতে পারবেন না। ইতিপূর্বেও দেখা গিয়েছে, ছাত্রলীগের সাথে যুক্ত থাকলে বিভিন্ন অপরাধ করলেও প্রশাসন তাদের বিচারের আওতায় আনতে অনীহা প্রকাশ করে। ১৭ জুলাইয়ের নিপীড়নের ঘটনা হঠাৎ করে ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা নয়, বরং ক্ষমতাসীনদের সন্ত্রাস ও অপরাধের একক আধিপত্য এবং এর পেছনে প্রশাসনের প্রচ্ছন্ন পৃষ্ঠপোষকতাই এই ঘটনার জন্ম দিয়েছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে রয়েছে যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল। ফলে যৌন নিপীড়নের শিকার হবার পর অভিযোগ জানানোর মত কোন কর্তৃপক্ষ সেখানে নেই। দিনের পর দিন বহু অভিযোগ জমা পড়ে আছে, বিচার নেই। যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল পুনর্গঠন করে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার দাবি আমরা জানাচ্ছি। নেতৃবৃন্দ চবি প্রশাসনকে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিতে হবে, অন্যথায় দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এই আন্দোলন দাবানলের মত সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে।