ডেস্ক রিপোর্ট

২২ জুলাই ২০২২, ২:০১ পূর্বাহ্ণ

এই বিশ্ববিদ্যালয় সাহসের ও লড়াইয়ের…

আপডেট টাইম : জুলাই ২২, ২০২২ ২:০১ পূর্বাহ্ণ

শেয়ার করুন

আল কাদেরী জয়::

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরুপ এক বিশ্ববিদ্যালয়।খুনী,রগকাটা জামাত-শিবিরের দীর্ঘ দখলদারি ও অবরুদ্ধতার বিরুদ্ধে রয়েছে এর সাহসী লড়াইয়ের ইতিহাস। সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী ছাত্র ঐক্যের ধারাবাহিক প্রতিরোধের মুখে পিছু হটে মৌলবাদীরা। কিন্তু দখলদারি বন্ধ হয় নি।হল ক্যাম্পাস,শাটলের বগি সর্বত্র চালু হয় ছাত্রলীগের মাস্তানি।বাস বন্ধবিরোধী আন্দোলন থেকে বিভিন্ন প্রগতিশীল আন্দোলন দমাতেই তখন তারা নেমে পড়ে। শিবিরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় ছাত্রলীগ।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও বিভিন্ন সময় তাদের স্বার্থের লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ছাত্রলীগকে ব্যবহার করে।

এই ছাত্রলীগের হাতে কেবল সাধারণ শিক্ষার্থীই নয়,নিজের দলের লোকজনও নিরাপদ নয়। দলীয় আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে যেমন খুনখারাবি হয়েছে তেমনি
ক্যাম্পাসে একের পর এক নারী নিপীড়ন ও যৌন হয়রানির ঘটনার সাথে এদের নাম বেরিয়ে আসে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা গবেষণা খাতে বরাদ্দ প্রায়ই উপেক্ষিত।আভ্যন্তরীণ আয় বৃদ্ধির নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভর্তি ফরম,পরীক্ষা ফি,ভর্তি ফিসহ নামে বেনামে বাড়তি টাকা আদায় চলছে।চাকসু’র খাবারের মান বাড়ে নি কিন্তু দাম বাড়িয়েছে ঠিকই। আর এই সকল অন্যায় অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেলেই নেমে আসে ছাত্রলীগের হুমকি,হামলা নির্যাতন।

সম্প্রতি নারী নিপীড়নের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও প্রশাসনের দায়িত্বহীনতার ফলাফল মাত্র। নিজের হলের সামনেই লাঞ্চিত ও অপমানের শিকার হলো এক নারী শিক্ষার্থী। এই প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে বরাবরই ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষত নারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ,নিপীড়ন সেলের কার্যকারিতা তৈরি, অতীতের নিপীড়নের ঘটনাগুলোর বিচারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো উপেক্ষিত হয়েছে। অথচ যখনই এই ধরণের ঘটনাগুলো ঘটে প্রশাসন দোষীদের না ধরে মেয়েরা কেন হলের বাইরে থাকে,রাত করে কেন ফেরে এসব কৈফিয়তই খুজতে থাকে। সান্ধ্য আইনের জারি করার মতো পরিবেশ তৈরি করে।

গতকাল রাতে এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। প্রক্টর-প্রভোস্টসহ দায়িত্বরত শিক্ষকদের চার কর্মদিবসের মধ্যে দাবি আদায় নয়তো পদত্যাগের বিষয়ে তারা রাজী করিয়েছে। তাদের সাথে মেয়েদের বাকবিতন্ডা চলেছে বেশ লম্বা সময় ধরে। কিন্তু মনে যেকোনো দাবি আদায়ে আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যা অর্জিত হয়েছে তা লড়াইয়ের মধ্যেই এসেছে আর যা হারিয়েছে তা লড়াই থেকে বিচ্যুত হয়েই হারিয়েছে।
নিপীড়নের বিরুদ্ধে, বিচারহীনতার বিরুদ্ধে এই লড়াই চালিয়ে যেতে হবে আরো বহুদূর। সেই সাহস,শক্তি ও মর্যাদা অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষকসহ সকলকেই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে!

তবেই মুক্ত হবে প্রাণের ক্যাম্পাস,তৈরি হবে গণতান্ত্রিক পরিবেশ, আসবে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা!

লেখক: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ও সাবেক ছাত্র নেতা

শেয়ার করুন