ডেস্ক রিপোর্ট
২০ জুলাই ২০২২, ৬:৩১ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ১৭ জুলাই নিজ হলের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ছিনতাই, মারধর ও শ্লীলতাহানীর শিকার হয়। ঘটনার ২দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অপরাধীদের শনাক্ত করতে পারেনি। উল্টো গতকাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেয়েদেরকে রাত ১০ টার মধ্যে হলে প্রবেশ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এই নির্দেশনায় তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণাভরে এই নির্দেশনা প্রত্যাখ্যান করেছে।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহবায়ক ইসরাত হক জেরিন ও সাধারণ সম্পাদক ঋজু লক্ষ্মী অবরোধ এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নারী শিক্ষার্থীর শ্লীলতাহানী ও ছিনতাইয়ের মতো এত জঘন্য ও শঙ্কাজনক ঘটনা ঘটার পর আমরা ধারণা করেছিলাম প্রশাসন অতিসত্বর দোষীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করলাম যে, এখনো পর্যন্ত প্রশাসন একজন অপরাধীকেও শনাক্ত তো করতে পারেইনি উল্টো মেয়েদেরকে রাত ১০টার মধ্যে হলে ঢুকে যাওয়ার মতো একটি অন্যায্য ও অবিবেচনাপ্রসূত এবং হাস্যকর নির্দেশনা দিয়ে প্রশাসন দায়সারা আচরণের প্রমাণ দিয়েছে।
একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে যেকোন সময়েই তার হল থেকে বের হতে পারবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব হলো সেই শিক্ষার্থীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
আমরা মনে করি যেকোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর তার সমাধান হলো অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করা এবং কেনো সে এই অপরাধ করতে পারছে তার কারণ খুঁজে বের করা। কিন্তু ভূক্তভোগীকেই উল্টো হল থেকে ১০টার পরে বের না হওয়ার এই ধরনের নিয়ন্ত্রণমূলক নির্দেশনাকে আমরা কোনো সমাধান মনে করিনা। এর মাধ্যমে প্রশাসন তার অপারগতার দায় শিক্ষার্থীদের উপরই চাপিয়ে দিতে চায়।
বিবৃতিতে, নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এই ধরণের নিয়ন্ত্রণমূলক ও দায়সারা নির্দেশনা থেকে সরে আসার জন্য প্রশাসনের নিকট আহবান জানান এবং অতি দ্রুত গত ১৭ জুলাই সংঘটিত নারী শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানীতে জড়িতদের শনাক্ত করে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।