ডেস্ক রিপোর্ট

৫ জুন ২০২২, ৯:০৩ অপরাহ্ণ

সীতাকুণ্ডে রাষ্ট্রীয় অবহেলায় কাঠামোগত হত্যাকাণ্ডে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রতিবাদ

আপডেট টাইম : জুন ৫, ২০২২ ৯:০৩ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: গত শনিবার মধ্যরাতে সীতাকুণ্ডের বিএম কন্টেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আমরা উদ্বেগের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, এই অগ্নিকাণ্ড নিছক কোন দুর্ঘটনা নয়। অনেকদিন ধরে চলে আসা রাষ্ট্রীয় অবহেলা, অব্যবস্থাপনা এবং জবাবদিহি না থাকার ফল।

এই ধরনের ঘটনা বাংলাদেশে বারবার ঘটছে। ২০১০ সালের ৩ জুন পুরান ঢাকার নিমতলীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২৪ জন মানুষ মারা যাওয়ার পরে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, দ্রুত রাসায়নিক কারখানা ও গুদাম সরিয়ে ফেলা হবে এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত এক যুগেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। নিমতলীর অগ্নিকাণ্ডের ৯ বছরের মাথায় ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টা অগ্নিকাণ্ডে ৭৭ জন মারা যান। এ ঘটনারও কোনো সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হয়নি।

এবার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঘটে গেল আরও একটি মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি। এ ঘটনায়ও আমরা লক্ষ্য করেছি অব্যবস্থাপনার ভয়াবহ চিত্র। এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নেই পানির পর্যাপ্ত সরবরাহ। নেই অগ্নিনির্বাপণের পর্যাপ্ত কাঠামো। এমনকি যে ধরনের রাসায়নিক বিস্ফোরণে পানির বদলে বালি-গ্যাস ব্যবহার করতে হয়, এখানে যে সেরকম রাসায়নিক ছিলো সেই তথ্য পর্যন্ত অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর কাছে ছিলো না। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে এগুলোর সুষ্ঠু তদারকি করা।

জননিরাপত্তা বিধান করা রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রধান একটি দায়িত্ব। কিন্তু আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থা সে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে বারবারই সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ। মানুষের জানমালের কোন মূল্য এ রাষ্ট্র এবং সরকার দেয়না। সেজন্যই এখানে প্রতিনিয়ত সড়ক দূর্ঘটনা, নৌপথে দূর্ঘটনা, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি বিভিন্ন নামে প্রকৃতভাবে কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড, রাষ্ট্রীয় খুনের শিকার হয় সাধারণ জনগণ।

আমরা এ অবস্থা পরিবর্তন চাই। অবিলম্বে জানমালের অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। এ ধরণের ঘটনা যেন আর কোনোভাবেই না ঘটে, সেটা রাষ্ট্রকেই নিশ্চিত করতে হবে। নিহত ও আহতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি আমরা শোক ও সমবেদনা জানাই। স্বজন হারানোর ব্যথায় আমরাও সমভাবে ব্যথিত।

শেয়ার করুন