ডেস্ক রিপোর্ট
২০ মে ২০২২, ১২:০৮ অপরাহ্ণ
নিজস্ব প্রতিবেদক:: আজ ২০ মে। চা-শ্রমিক জনগোষ্ঠীর ইতিহাসে একটি রক্তস্নাত দিন। ১৯২১ সালের এই দিনে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে ব্রিটিশ বাহিনীর নেতৃত্বে আসাম গোর্খা পুলিশ শত শত চা-শ্রমিককে হত্যা করেছিল। সেই রক্তস্নাত দিনের আজ ১০১তম বার্ষিকী।
দিবসটিকে ‘চা শ্রমিক দিবস’ হিসেবে ঘোষণার দাবিসহ বিভিন্ন দাবিতে সিলেট, মৌলভিবাজার, হবিগঞ্জ জেলার চা-বাগানে সকালে শ্রদ্ধঞ্জলি নিবেদনসহ নানা কর্মসূচি পালিত হবে আজ শুক্রবার (২০ মে)। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের উদ্যাগে দিনটি স্মরণে সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে চা শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্টিত হবে। এছাড়াও কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন বাগানে সমাবেশ করবে।
বিকেল ৪টায় চুনারুঘাট উপজেলার দেউন্দি চা-বাগানের শহিদবেদিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের মাধ্যমে শুরু হবে প্রতীক থিয়েটারের দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার।
শ্রমিক ইতিহাসের নির্মম এ হত্যাযজ্ঞটি ঘটে ১০০ বছর আগে। যেটি ১৮৮৬ সালের ৫ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের ‘হে’ মার্কেটে শ্রমিক নিধনের ঘটনাকেও হার মানায়।
সেদিন প্রায় ৩০ হাজার চা-শ্রমিক আসাম ও সিলেট অঞ্চল থেকে নিজ দেশ বিহার, উড়িষ্যা, মাদ্রাজ, উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ ফিরে যেতে ১৭ দিন পায়ে হেঁটে চাঁদপুরে লঞ্চঘাটে গিয়েছিলেন। পণ্ডিত গঙ্গা দয়াল দীক্ষিত ও পণ্ডিত দেওশরনের নেতৃত্বে ওই দিন চা-শ্রমিকরা ‘মুল্লুকে চল’ স্লোগান দিয়ে দীর্ঘযাত্রা শেষে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে পৌঁছান।
পরে ক্লান্ত আর নিরস্ত্র এসব চা-শ্রমিককে হত্যা করেছিল আসাম রাইফেলসের গোর্খা বাহিনী। গুলিবর্ষণ ও লাঠিচার্জে হতাহত শ্রমিকদের পেট কেটে মেঘনা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। যাতে লাশ নদীতে ভেসে না ওঠে এবং আন্তর্জাতিক মহলেও যেন এ গণহত্যার কথা প্রকাশ না পায়। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় যে প্রায় ১৫ হাজার শ্রমিককে হত্যা করা হয়।
তাই চা-শ্রমিক আন্দেলনকে শক্তিশালী করতে ২০০৮ সাল থেকে ‘চা শ্রমিক দিবস’ হিসেবে এ দিনটিকে পালন করে আসছে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশন।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক দিপঙ্কর ঘোষ জানান, সংগঠনটি আগমী ২২ মে মৌলভিবাজারে কেন্দ্রীয় ভাবে সহস্রাধিক চা শ্রমিকদের নিয়ে সমাবেশ করবে।
ঐতিহাসিক ‘মুল্লুক চলো’ আন্দোলনের ১০১তম বর্ষ উপলক্ষে ২০ মে কে চা-শ্রমিক দিবস ঘোষণা, ন্যূনতম মজুরি ৫০০ টাকা ও ৫ কেজি রেশন, ভূমি অধিকার নিশ্চিতসহ কয়েকটি দাবিতে আলোচনা সভা ও স্মারকলিপি প্রদান করবে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশন, চা শ্রমিক ইউনিয়ন, চা শ্রমিক অধিকার আন্দোলনসহ কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন।