ডেস্ক রিপোর্ট
৩ জানুয়ারি ২০২২, ২:৩৪ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: লঞ্চ দুর্ঘটনার জন্য সর্বোচ্চ সাজা পাঁচ বছর, তবে আইনটি পরিবর্তন করা হবে বলে জানিয়েছেন নৌ পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।
আজ সোমবার সকালে শেখ হাসিনা বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি। পরিদর্শনে গিয়ে দগ্ধদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন তিনি। এ সময় তিনি দ্রুত তাদের আরোগ্য কামনা করেন।
এসময় প্রতিমন্ত্রী জানান, সর্বোচ্চ শাস্তি হলো ৫ বছর। এই জায়গাটাতে আমরা আটকে আছি। এটা নিয়ে আরও কাজ করতে হবে, আমরা কাজ করছি।
তিনি আরও বলেন, যারা যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে না পারবে তারা নৌ-খাতে থাকতে পারবে না। এছাড়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চলবে বলেও জানান নৌ পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী।
এসময় ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন জানান, ঝালকাঠিতে লঞ্চ দুর্ঘটনায় চিকিৎসাধীন ১২ জনের কেউই শঙ্কামুক্ত নয়। সবারই শ্বাসনালরি ইনহেলেশন ইনজুরি হয়েছে। আমাদের একান থেকে ছুটি নিয়ে বাড়ি যাওয়া না পর্যন্ত কাউকেই আমরা শঙ্কামুক্ত বলতে পারছিনা।
এদিকে, ঝালকাঠির লঞ্চে আগুনে আহত রাসেল শেখ (৩৮) নামে আরও একজন মারা গেছেন। আজ সকাল ১১টার দিকে শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। এ নিয়ে এই দুর্ঘটনায় মোট মৃত্যু সংখ্যা দাঁড়ালো ৪৮-এ।
রাসেলের ভাই মুন্না শেখ জানান, তাদের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার নোওয়াপাড়া গ্রামে। রাজধানীর সবুজবাগের মাদারটেক চৌরাস্তায় থাকতেন রাসেল। লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের পর রাসেলের স্ত্রী পুতুল (৩২) এবং শ্যালক কালু (২৮) ও রবিনকে (১৬) আহত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে, রাসেলের শাশুড়ি মনোয়ারা বেগম (৭০), কালুর স্ত্রী রুমা আক্তার (২০), তার মেয়ে অহনা (৫) ঘটনাস্থলেই মারা যান। নিখোঁজ রয়েছে রাসেলের ২ ছেলে ইমন (৮) ও জীবন (১২)।
চিকিৎসকরা জানান, রাসেলের শ্বাসনালীসহ ২৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তার মৃত্যু হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৩শে ডিসেম্বর দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকা থেকে বরগুনার উদ্দেশে যাওয়া এমভি অভিযান-১০ নামের লঞ্চটিতে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদেরকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল ও ঢাকা শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।