ডেস্ক রিপোর্ট
৩১ ডিসেম্বর ২০২১, ৪:০০ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, করোনাকালে চিকিৎসকদের পাশাপাশি যারা ফ্রন্ট লাইনার হিসেবে কাজ করেছেন পুলিশ তার মধ্যে অন্যতম ছিল। করোনায় কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে দেশ ও জনগণের কল্যাণে যা যা করা প্রয়োজন, সব করেছে পুলিশ। তারা দায়িত্ব পালনে কোনো সময় অবহেলা করেনি। ওই সময় পুলিশ এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এর আগে কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ করোনা ইনসিগনিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেন। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একে একে আইজিপি, অতিরিক্ত আইজি এবং পুলিশ সদস্যদের করোনা ইনসিগনিয়া পরিয়ে দেন।
পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনারা আবারও প্রমাণ করলেন পুলিশ জনগণের পাশে থাকে, ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে। করোনা কীভাবে আমাদের পর্যুদস্ত করেছে তা আপনারা দেখেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশে করোনা মোকাবিলায় লকডাউন, কোয়ারেন্টাইন বাস্তবায়ন, অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছানো, তাদের বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেয়া, করোনায় কেউ মারা গেলে যখন আত্মীয়-স্বজনরা মরদেহ ফেলে চলে গেছেন তখন তার দাফন ও সৎকার করা, এমনকি কৃষকের ধান কাটার ব্যবস্থাও করেছে পুলিশ। করোনা রোগীদের চিকিৎসায় যখন দেশের অনেক বড় বড় হাসপাতাল কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছে, সেখানে পুলিশ হাসপাতাল করোনা চিকিৎসায় অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। তারা শুধু পুলিশ সদস্যদের নয়, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষকেও চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন।
এ সময় করোনাকালে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সেবা দেয়ার কাজে নেতৃত্ব দেয়ায় আইজিপি ও পুলিশ সদস্যদের বিশেষ ধন্যবাদ জানান তিনি।
সভাপতি বক্তব্যে পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ জানান, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্কে যখন স্বজনরা স্বজনদের ছেড়ে যাচ্ছিল, সে সময় জীবনের পরোয়া না করে পুলিশ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। একে মহাকাব্যিক যুদ্ধ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, করোনা এক মহাকাব্যিক যুদ্ধ। ভয়াবহতার সময় পুলিশ সদস্যরা নিজেদের সুরক্ষার কথা চিন্তা না করে আগে সেবা দিয়েছেন।
আইজিপি জানান, করোনাকালে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুলিশ এক মহাকাব্যিক যুদ্ধে লিপ্ত হয়। পুলিশকে সারাবিশ্বের মতো আমাদের দেশেও ফ্রন্ট লাইনার হিসেবে কাজ করতে হয়েছে। করোনাকালে দেশ ও জনগণের কল্যাণে বাংলাদেশ পুলিশের ১০৭ জন গর্বিত সদস্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২৬ হাজারের বেশি। আক্রান্তরা সুস্থ হয়েই দেশ ও জনগণের কল্যাণে আবার নিজেদের নিয়োজিত করেছেন।
পুলিশ প্রধান বলেন, প্রথম দিকে করোনা সংক্রমণে প্রতিদিন প্রায় ৭০০-৮০০ পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। আমাদের পিপিই নেই, হ্যান্ডগ্লাভস নেই, মাস্ক নেই। তবুও আমরা জনগণের পাশে ছিলাম। এ জন্য আমাদের সদস্যদের সংক্রমণের হার বেড়ে গিয়েছিল। আমরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জনগণকে সেবা দিয়েছি। এবং পরে নিজেদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত আইজি (এফঅ্যান্ডএল) এস এম রুহুল আমিন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত আইজি (এঅ্যান্ডআই) ড. মো. মইনুর রহমান চৌধুরী, ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম, র্যাব মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ-আল মামুন, ঢাকার পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট প্রধান ও ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে করোনাকালে জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে করোনাকালে পুলিশের অনন্যসাধারণ অবদানের ওপর একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।