ডেস্ক রিপোর্ট
২৪ নভেম্বর ২০২১, ৯:৪০ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ গত জুলাইয়ে প্রায় দেড় বছর পর টেস্ট খেলতে নেমে সেঞ্চুরি করেন । জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৫০ রানের অপরাজিত ইনিংসে হন ম্যাচসেরা। ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসটি খেলে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেন বাংলাদেশ দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। ম্যাচ শেষে তাকে ‘গার্ড অব অনার’ দেন সতীর্থরা।
তবে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা তখন দেননি মাহমুদউল্লাহ। চার মাস পর বুধবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মাহমুদউল্লাহ টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন।
হারারেতে ১১ জুলাই জিম্বাবুয়েকে ২২০ রানে হারানোর পর মাহমুদউল্লাহকে বিদায়ী অর্ঘ্য দিয়েছিল বাংলাদেশ দল। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ বা বিসিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বার্তা না আসায় ধূম্রজাল ছিলই।
অনেকে মনে করছিলেন টেস্টে বারবার উপেক্ষিত থাকায় অভিমানে এই ফরম্যাট থেকে সরে দাঁড়াতে চাইছেন মাহমুদউল্লাহ। পরে বিভিন্ন সময়ে এ নিয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন মাহমুদউল্লাহ। অবশেষে বিসিবির এদিনের বিবৃতিতে এ বিষয়ে সব প্রশ্নের অবসান হলো।
২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের দুই বছর পর টেস্ট যাত্রা শুরু মাহমুদউল্লাহর। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে টেস্ট অভিষেক হয় তার। ১২ বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারে খেলেছেন ঠিক ৫০ ম্যাচ। ৩৩.৪৯ গড়ে ২৯১৪ রান করেছেন। সঙ্গে ৪৩ উইকেট তার নামের পাশে। ৬ টেস্টে দেশকে নেতৃত্বও দিয়েছেন।
বিদায়ী বার্তায় মাহমুদউল্লাহ বলেছেন, ‘দীর্ঘ দিন যে ফরম্যাটে দলের অংশ ছিলাম সেটি ছেড়ে দেওয়া মোটেও সহজ ছিল না। আমি সব সময় উঁচুতে যাওয়ার চিন্তা করতাম এবং আমি বিশ্বাস করি টেস্ট ক্যারিয়ারের ইতি টানার এটিই সবচেয়ে সেরা সময়।’
বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনসহ সতীর্থদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ, ‘আমি টেস্ট দলে ফিরে আসার পর আমাকে সমর্থন জানানোর জন্য বিসিবি সভাপতিকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমার টিমমেট এবং সাপোর্ট স্টাফদের প্রতি কৃতজ্ঞ আমাকে উৎসাহ দেওয়ায় এবং আমার সামর্থ্যে বিশ্বাস রাখায়। বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট খেলতে পারাটা পরম সম্মান ও সৌভাগ্যের ছিল। আমি অনেক স্মৃতি লালন করব।’
টেস্ট ক্রিকেট ছাড়লেও ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন মাহমুদউল্লাহ, ‘যদিও আমি টেস্ট থেকে অবসর নিচ্ছি, তবে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি চালিয়ে যাব। সাদা বলে দেশের হয়ে সেরাটা দেওয়ার জন্য আমি সত্যিই উন্মুখ।’