ডেস্ক রিপোর্ট

১১ নভেম্বর ২০২১, ১২:১৮ অপরাহ্ণ

জলবায়ু সহযোগিতা বাড়াতে একমত চীন ও যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট টাইম : নভেম্বর ১১, ২০২১ ১২:১৮ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: বিশ্বে সবচেয়ে বেশি কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন করা দুই দেশ চীন ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আগামী দশকজুড়ে জলবায়ু সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে তারা। স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে কপ-২৬ জলবায়ু সম্মেলনে এমন আচমকা ঘোষণা আসে। খবর বিবিসির।

তারা বলেছে যে উভয় পক্ষই ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তিতে নির্ধারিত ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সীমাবদ্ধ থাকার লক্ষ্য অর্জনে ‘একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’।

সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য ক্ষেত্রে চোখে পড়ার মতো ব্যবধানগুলো ধাপে ধাপে কমিয়ে আনতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র।

এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন পরিবেশবাদী আন্দোলনকর্মী ও রাজনীতিবিদরা। জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন একে বেশ জরুরি ও উৎসাহব্যঞ্জক পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

তবে গ্রিনপিস বলছে, দুই দেশের আরও বেশি বেশি প্রতিশ্রুতি দেওয়া উচিত ছিল।

বিজ্ঞানীরা বলছেন যে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত করা মানবজাতিকে জলবায়ুর পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এড়াতে সাহায্য করবে। শিল্প যুগের আগের তাপমাত্রার সঙ্গে তুলনা করে এই মানদণ্ড ঠিক করা হয়েছে।

২০১৫ সালে প্যারিসে বিশ্ব নেতারা কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন হ্রাসের মাধ্যমে বিশ্বের উষ্ণতা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

চীনের শীর্ষ জলবায়ু আলোচক শি জেনহুয়া সাংবাদিকদের বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে ‘চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যতটা না মতপার্থক্য আছে, তার চাইতে বেশি চুক্তি রয়েছে’।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সামনের সপ্তাহে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বুধবারের এই বিরল যৌথ ঘোষণায় মিথেন নির্গমন, ক্লিন এনার্জিতে রূপান্তর ও ডি-কার্বনাইজেশনসহ বিভিন্ন বিষয়ে একমত হয়েছেন তারা।

কিন্তু চীন এই সপ্তাহের শুরুতে ক্ষতিকারক গ্রিনহাউজ গ্যাস মিথেনের নির্গমন কমিয়ে আনার বিষয়ে চুক্তি করতে অস্বীকার করে।

ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে আরও প্রায় ১০০টি দেশ। চীন এর পরিবর্তে মিথেনের নির্গমন নিয়ন্ত্রণে একটি ‘জাতীয় পরিকল্পনা’ তৈরি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

মার্কিন জলবায়ু দূত জন কেরি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে নানা বিষয়ে মতভেদ রয়েছে, তবে জলবায়ু ইস্যুতে, সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করাই একমাত্র উপায়।

‘প্রতিটি পদক্ষেপই এখন গুরুত্বপূর্ণ এবং আমাদের সামনে আরও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।’

শেয়ার করুন