ডেস্ক রিপোর্ট

৮ নভেম্বর ২০২১, ২:৩২ অপরাহ্ণ

ফ্যাসিবাদী শাসন ও মৌলবাদ রুখে দাঁড়ান : সাম্যবাদী আন্দোলন

আপডেট টাইম : নভেম্বর ৮, ২০২১ ২:৩২ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:: রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ১০৪ তম বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন গাইবান্ধা জেলা শাখার উদ্যোগে ৮নভেম্বর সোমবার সকাল ১১টায় পৌর শহীদমিনার চত্ত্বরে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জনসভা শেষে লাল পতাকা মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেে।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা সদস্যসচিব মনজুর আলম মিঠু, বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রিয় পাঠচক্র ফোরামের সদস্য কমরেড আমিনুল ইসলাম, সুন্দরগন্জ উপজেলা আহবায়ক বীরেন চন্দ্র শীল, সবুজ মিয়া, বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের জেলা সভাপতি অধ্যাপক রোকেয়া খাতুন, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের জেলা সংগঠক শামিম আরা মিনা।

বক্তারা বলেন, আজ থেকে ১০৪ বছর আগে ১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর পৃথিবীর বুকে এক যুগান্তকারী বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল। মহামতি কার্ল মার্ক্স ও ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস সভ্যতার কারিগর শ্রমজীবী মানুষের নিজস্ব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার যে পথনির্দেশ করেছিল। সেই দিকনির্দেশনা কে পাথেয় করে রাশিয়ার শ্রমিক-কৃষক মেহনতী মানুষ বলশেভিক পার্টি ও তার নেতা কমরেড লেনিনের নেতৃত্বে প্রথম শ্রমিক শ্রেণির রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও মেহনতী মানুষের কর্মোদ্দীপনা ও অংশগ্রহণ মানুষের কতটা পরিবর্তন আনতে পারে তা দেখিয়ে দিয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। পুঁজিবাদী বিশ্ব যখন অর্থনৈতিক মন্দায় দিশাহারা তখনও সোভিয়েত ইউনিয়ন সমস্ত মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা নিশ্চিত করেই ক্ষান্ত হয়নি বিশ্বে সর্বপ্রথম নারীদের ভোটাধিকার, শিক্ষায় সমান সুযোগ, সমমজুরি নিশ্চিত, মহাশূন্যে মানুষ পাঠানো, পারমাণবিক শক্তিকেন্দ্র নির্মাণ করেছিল। মেহনতী মানুষের জন্য উন্মুক্ত করেছিল শিল্প-সাহিত্যর দ্বার। ক্রীড়াক্ষেত্রেও সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল অগ্রসর। প্রতিটি মানুষের আত্নমর্যদা নিয়ে বাঁচার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল।

বক্তারা বলেন, সোভিয়েত ইউনিয়ন শুধুমাত্র নিজস্ব সীমানার ভেতরের সাধারণ মানুষকে নতুন জীবনের আস্বাদ দেয়নি, বরং সারা বিশ্বের মেহনতী মানুষের মুক্তির সংগ্রামে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। ফ্যাসিস্ট হিটলার বাহিনীর ভয়াল আক্রমণ থেকে। বিশ্বসভ্যতাকে রক্ষা করেছে। সংশোধবাদের কবলে পড়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের আজ বিপর্যয় হয়েছে, পুঁজিবাদী ব্যবস্থা পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় নতুন করে বুর্জোয়াদের শাসন-শোষণে সেখানকার মানুষ চরম দুর্দশাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে শ্রমিক কৃষক মেহনতী মানুষের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম আরও অপরিহার্য হয়ে দেখা দিয়েছে। সোভিয়েত পরবর্তী বিশ্বে পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েকটি বৃহৎ একচেটিয়া আন্তর্জাতিক ব্যাংক, কারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এখন বিশ্ব অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করছে। গোটা বিশ্বে দেশী বিদেশী পুঁজিপতিদের স্বার্থে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহকে বেসরকারীকরণের মহোৎসব চলছে। মুনাফালোভী পুঁজির প্রকৃতি বিধ্বংসী পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই পৃথিবীর প্রাকৃতিক চক্রসমূহের ও পরিবেশগত ভারসাম্য এর অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করে ফেলেছে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস সংক্রমণের মধ্যেও পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠী তাদের মুনাফার অংক বাড়িয়ে চলছে আর দেশে দেশে শত কোটি মানুষ জীবন জীবিকা হারিয়ে চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করছে। এই নির্মম শোষণ বৈষম্যের বিরুদ্ধে শ্রমজীবী মানুষ যেন ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারে তাই দেশে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন শোষণ চলছে। সমাজের প্রতিটি প্রান্তে অস্ত্র, মাদকের পাশাপাশি পুরাতন ধর্মান্ধ জাত পাতের বিদ্বেষপূর্ণ সাম্প্রদায়িক মতাদর্শের বিস্তার ঘটাচ্ছে।

বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাদী গোষ্ঠীও একই ভাবে নিজেদের তৈরি করা সংসদীয় ব্যবস্থার কোন রকম নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে গত দুই বার থেকে ভোটারবিহীন, প্রার্থীবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ পরিচালনা করছে। এই অবৈধ সরকার করোনার ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যেই দেশের ২৫ টি রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকল, ৯ টি চিনিকল বন্ধ করেছে, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সর্বক্ষেত্রে এবং তথাকথিত উন্নয়নের নামে প্রাণ, প্রকৃতি পরিবেশ বিধ্বংসী নানা মেগাপ্রকল্পে সীমাহীন দুর্নীতি লুটপাট করছে। ক্রমাগত চাল- ডাল-সোয়াবিন তেলসহ নিত্যপন্যের মুল্য বৃদ্ধি করে চলেছে। ডিজেল -কেরোসিন -গ্যাসসহ পরিবহন ভারা বৃদ্ধি করে জনজীবন দূর্বীসহ করে তুলেছে।

আজকের এই চরম সংকটময় পরিস্থিতিতে পৃথিবীর দেশে দেশে পুঁজিবাদ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে শ্রমিক কৃষক মেহনতী মানুষের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ছাড়া মুক্তির পথ নেই। রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের সফলতা ও ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশের মাটিতে শ্রমিক শ্রেণির বিপ্লবী দলের নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সফল করতে হবে।নেতৃবৃন্দ সেই বিপ্লবী সংগ্রামে দেশের সকল শোষিত-নিপীড়িত মানুষকে অংশগ্রহণ করার আহবান জানান।

শেয়ার করুন