ডেস্ক রিপোর্ট

২৭ অক্টোবর ২০২১, ৩:০৩ অপরাহ্ণ

চায়না টেলিকমের লাইসেন্স বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট টাইম : অক্টোবর ২৭, ২০২১ ৩:০৩ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: চীনের অন্যতম বৃহৎ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি চায়না টেলিকমের লাইসেন্স বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কারণ হিসেবে ‘জাতীয় নিরাপত্তা’কে টানা হয়েছে।

বিবিসি জানায়, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে চায়না টেলিকমকে।

চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী লিউ হে’র সঙ্গে মার্কিন অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেন বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা পরেই লাইসেন্স বাতিলের এই সিদ্ধান্ত জানা গেল।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এই কোম্পানির ওপর চীনের সরকারের নিয়ন্ত্রণের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ ব্যবস্থায় তাদের প্রবেশ, তথ্য মজুত, বিঘ্ন তৈরি বা ভুলভাবে চালানোর সুযোগ থেকে যায়।

এর ফলে চীন ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি বা অন্য ক্ষতিকারক কর্মকাণ্ড চালানোর’ সুযোগ পেতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে দুই দশক ধরে টেলিযোগাযোগ সেবা দিয়ে আসা চায়না টেলিকম এই সিদ্ধান্তকে ‘হতাশাজনক’ বলে বর্ণনা করেছে। এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করার জন্য আমরা সম্ভাব্য সকল বিকল্প অনুসরণের পরিকল্পনা করছি।’

চীনের টেলিযোগাযোগ খাতে যে তিনটি কোম্পানির প্রাধান্য রয়েছে, তাদের একটি চায়না টেলিকম। প্রতিষ্ঠানটি ১১০টি দেশে কোটি কোটি গ্রাহককে সেবা দিয়ে থাকে। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট থেকে শুরু করে মোবাইল ও ল্যান্ডলাইন টেলিফোন নেটওয়ার্কে এই কোম্পানি সেবা দিয়ে থাকে।

২০২০ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশন (এফসিসি) সতর্ক করে দেয়, তারা হয়তো চায়না টেলিকমের কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দিতে পারে। তারা দাবি করেছিল, ‘চীনা সরকারের শোষণ, প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।’

আরও বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি ‘সম্ভবত কোন রকম স্বাধীন বিচার-বিবেচনা ছাড়াই চীনা সরকারের অনুরোধ মেনে চলতে বাধ্য হয়ে থাকে।’

গত বছর হুয়াওয়ে এবং জেডটিই-কে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য হুমকি হিসাবে বর্ণনা করেছিল এফসিসি। এর ফলে তাদের কাছ থেকে যন্ত্রপাতি কেনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কঠিন হয়ে যায়।

এর আগে ২০১৯ সালে চায়না মোবাইলের মার্কিন লাইসেন্স বাতিল করে দিয়েছিল এফসিসি। চায়না ইউনিকম আমেরিকান এবং প্যাসিফিক নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রেও এ রকম ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সবগুলো ঘটনাতেই যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলেছেন, এ সব কোম্পানির মাধ্যমে চীনের সরকার আমেরিকার বিরুদ্ধে গুপ্তচরগিরি বা জাতীয় স্বার্থের ক্ষতি করতে পারে।

শেয়ার করুন