ডেস্ক রিপোর্ট

২৭ অক্টোবর ২০২১, ১০:৩৫ অপরাহ্ণ

নোয়াখালীতে হামলার ঘটনায় জেলা যুবদল সভাপতি গ্রেপ্তার

আপডেট টাইম : অক্টোবর ২৭, ২০২১ ১০:৩৫ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মণ্ডপ, মন্দির ও বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় জেলা যুবদলের সভাপতি মঞ্জুরুল আজিম সুমনসহ আরো পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার আসামির রিমান্ডে দেওয়া তথ্যের সূত্র এবং ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানায়।

এদিকে সহিংসতার ঘটনায় দায়ের তিন মামলা সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যার অভিযোগে ইসকন কর্তৃপক্ষের একটি ও পুলিশ বাদী হয়ে করা দু’টি মামলা রয়েছে।

পুলিশ জানায়, সোমবার আদালতে স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ফয়সল ইনাম কমলের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে সুমনের নাম উঠে আসে। সে প্রেক্ষিতে সুমনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে মঙ্গলবার ভোরে রাঙ্গামাটি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। মঞ্জুরুল আজিম সুমন (৪৯) গনিপুর গ্রামের মৃত হাজী আবদুল হকের ছেলে।

বুধবার সন্ধ্যায় নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গ্রেপ্তার অন্যরা হলো, বেগমগঞ্জ উপজেলার মধ্য হাজীপুর গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে রাজু রহমান (২৫), দক্ষিণ পূর্ব হাজীপুরের মৃত সোলেমান মিয়ার ছেলে সফিকুল ইসলাম সুজন (২৯), একলাশপুর গ্রামের হারুনুর রশিদের ছেলে মুরশিদ আলম রাসেল (২৭) ও চৌমুহনী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডেও মৃত আলী আজ্জমের ছেলে আবদুর রহিম (৭০)।

পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, মূলত ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমেই ঘটনায় সম্পৃক্তদের শনাক্ত করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার পাঁচজনের চারজনকেই ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত করি। সহিংসতায় মঞ্জুরুল আজিম সুমনের সম্পৃক্ততা গ্রেপ্তার জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ফয়সল ইনাম কমলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে উঠে আসে। এর প্রেক্ষিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে রাঙ্গামাটি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ চারটি মামলা রয়েছে বেগমগঞ্জ থানায়।

মঞ্জুরুল আজিম সুমন গ্রেপ্তারের প্রতিক্রিয়ায় জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান বলেন, উনি যদিও জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি তবু তার সবার সঙ্গে, সার্বজনীন সুসম্পর্ক আছে। উনি একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ। ওনার এলাকাটাই একটা হিন্দু পাড়া। হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা। তার বিরুদ্ধে হিন্দুদের নেতৃস্থানীয় কারো কোনো অভিযোগ নেই।

তিনি বলেন, আমরা এ গ্রেপ্তারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং সাংগঠনিকভাবে এ বিষয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচিও দেওয়া হবে।

পুলিশ জানায়, বিভিন্ন মন্দিরে হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় গ্রেপ্তার আরো আট আসামির বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। এ নিয়ে জেলায় ২০৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সহিংসতার তিন মামলা সিআইডিতে হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল ইসলাম। পুলিশ সুপার কার্যালয়ের একটি সূত্র জানা গেছে, চৌমুহনীর ইসকন মন্দিরে দুটি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে দায়ের মামলা, কলেজ রোডের বিজয়া সার্বজনীন দুর্গা, ইসকন ও লোকনাথ মন্দিরে ভাঙচুরের মামলা ও ব্যাংক রোডের রাধামাধব জিউর মন্দির, রাম ঠাকুর আশ্রম মন্দির ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলা তদন্ত করবে সিআইডি।

মন্দির ভাঙচুর ও সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা ২৯ মামলায় এখন পর্যন্ত ২০৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

জেলা পুলিশ সুপার জানান, হামলার দিন ব্যাংক রোডে দু’টি মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় এসআই জামাল হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। কলেজ রোডে তিনটি মন্দির ভাঙচুরের ঘটনায় এসআই জাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে এবং যতন সাহা ও প্রান্ত দাস নিহতের ঘটনায় ইসকনের পক্ষ থেকে রত্নেশ্বর দেবনাথ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

বিশেষ পুলিশ সুপার (সিআইডি) মো. বশির আহমেদ বলেন, জেলা পুলিশ থেকে মামলার নথিপত্র হস্তান্তরের পর আমরা বাকি কার্যক্রম শুরু করব।

কুমিল্লায় মূর্তির কোলে পবিত্র কোরআন রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১৫ অক্টোবর শুক্রবার জুমার নামাজের পর নোয়াখালীর চৌমুহনীর শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ গৌর নিত্যানন্দ বিগ্রহ (ইসকন) মন্দির, শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর চন্দ্র আশ্রম মন্দির ও শ্রী শ্রী রাধামাধব জিউর মন্দিরসহ বিভিন্ন মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিকাণ্ড ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। জেলার বিভিন্ন মন্দিরে হামলার ঘটনায় এর আগে ২৬ মামলা হয়েছে। যাতে ৪১০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আরো সাড়ে ৭ হাজার আসামি করা হয়েছে।

এসব ঘটনায় সর্বশেষ গ্রেপ্তার ৮ আসামির বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। এ নিয়ে মোট ১১ জনকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

বুধবার দুপুরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক কাজী সোনিয়া আক্তার আসামিদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছেন, বেগমগঞ্জ থানার ২৯ নম্বর মামলার আসামি ইলিয়াস ও মনির হোসেন হৃদয় চার দিন, নূর মোহাম্মদ দুদিন, বেলাল হোসেন সুমন এক, ২৭ নম্বর মামলার আসামি বেলাল হোসেন তিন, হুমায়ন কবির, সুজন ও কামাল হোসেনের দুদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। শুক্রবার বেগমগঞ্জের চৌমুহনীর বিভিন্ন মন্দিরে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার আট আসামির বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করে তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মিজানুর রহমান পাঠান।

বুধবার দুপুরে আসামিদের উপস্থিতিতে বিজ্ঞ বিচারক শুনানি শেষে ৮ আসামির বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তাদের বেগমগঞ্জ থানায় নেয়া হয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শেয়ার করুন