ডেস্ক রিপোর্ট
২৬ অক্টোবর ২০২১, ৯:২২ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: কুমিল্লায় সহিংসতার ঘটনায় ইকরাম ও বাবু নামে বিএনপির মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর দুই ‘কর্মী’ এখন আলোচনায়। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, অভিযুক্ত ইকরাম ও বাবু তাদের সক্রিয় কর্মী নন।
ইকরামসহ রিমান্ডে থাকা দুই আসামি এবং পুলিশের খাতায় পলাতক বাবুর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে এখন নগরজুড়ে তোলপাড় চলছে। অপর আসামি ফয়সাল জামায়াত কর্মী বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় মহিউদ্দিন এবং বাবুসহ বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে হন্যে হয়ে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ সংবাদমাধ্যমকে জানায়, মঈনুদ্দিন আহমেদ বাবুকে নানুয়া দিঘির পাড়ে উপস্থিত জনতাকে উসকানি দেওয়া ব্যক্তিদের একজন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ইকবাল। বাবু স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে কুমিল্লা সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে পরিচিত। বিক্ষুব্ধ জনতা মণ্ডপে জড়ো হলে বাবু এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।
মেয়র সাক্কু তার বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার কোনো ব্যক্তিগত সচিব নেই। তবে বাবু প্রায়ই আমার সঙ্গে থাকে। আমি পুলিশকে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এই ঘটনায় তার কী ভূমিকা তা খুঁজে বের করতে বলেছি। যদি সে দোষী হয়, তাহলে অবশ্যই তার শাস্তি হওয়া উচিত।’
তিনি বর্তমানে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।
অপরদিকে মঙ্গলবার বিকেলে মেয়র মনিরুল হক সাক্কু সমর্থিত বিএনপির একাংশ সংবাদ সম্মেলনে তাদের কর্মী-সমর্থকদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন। সেখানে কয়েকজন নেতা বলেন, ইকরাম বিএনপির সক্রিয় কর্মী নন।
পুলিশ জানায়, পূজামণ্ডপে কোরআন শরিফ রাখা ইকবালকে গ্রেপ্তার করা হলেও সহিংস ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়েছে।
সিআইডি সূত্র বলেছে, পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনার শুরু থেকে পুলিশের পাশাপাশি সিআইডিও তদন্তে সহায়তা করে আসছে। রোববার পুলিশ সদরের নির্দেশে মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তরের আদেশ আসে। মঙ্গলবার মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়। এরই মাঝে সাত দিনের রিমান্ডে থাকা ইকবাল হোসেনসহ চারজনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে তদন্ত সংস্থা সিআইডি।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, পুলিশ ও গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে মণ্ডপে কোরআন রাখার বিষয়ে ইকবাল এবং ৯৯৯ এ কল দেওয়া ইকরাম পুলিশের কাছে দায় স্বীকার করলেও তাদের ইন্ধনদাতাদের বিষয়ে অসংলগ্ন তথ্য দিয়েছে।
পুলিশ সূত্র বলেছে, ইকবাল ও ইকরাম হঠাৎ করে ঘটনার রাতেই মণ্ডপে কোরআন রাখা কিংবা ৯৯৯-এ কল দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি। তারা আগে থেকেই পরিচিত এবং সিদ্ধান্ত দু’দিন আগেই নিয়েছিল। মাজারের মসজিদ থেকে কোরআন নেয়ার বিষয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। ইকবালও তাই স্বীকার করেছে। তবে মাজারের দুই সহকারী খাদেম ফয়সাল ও হুমায়ুন কোরআন সরবরাহ করার বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন। তারা পুলিশকে জানিয়েছেন, ইকবাল তাদের দীর্ঘদিনের পরিচিত এবং প্রায়ই মাজার ও মসজিদে তার যাতায়াত ছিল।
মঙ্গলবার রাতে সিআইডি কুমিল্লার পুলিশ সুপার খান মোহাম্মদ রেজওয়ান বলেন, মঙ্গলবার মামলার ডকেট আমাদের কাছে এসেছে। একটি স্পর্শকাতর মামলা হিসেবে খুব গুরুত্বের সঙ্গে ঘটনার শুরু থেকে আমরা তদন্ত কার্যক্রমে পুলিশকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছি।
তিনি আরো বলেন, মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হচ্ছে মণ্ডপ থেকে পুলিশের উদ্ধার করা পবিত্র কোরআন শরিফ। তবে ওই কোরআন শরিফে অনেকেরই ফিঙ্গারপ্রিন্ট থাকায় আমরা (সিআইডি) পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এতে সুনির্দিষ্ট কারও ফিঙ্গারপ্রিন্ট পাইনি।
গত ১৩ অক্টোবর নগরীর নানুয়া দিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় পাঁচটি, সদর দক্ষিণ মডেল থানায় দুটি এবং দাউদকান্দি ও দেবীদ্বার থানায় একটি করে মোট নয়টি মামলা হয়। এসব মামলায় শনিবার পর্যন্ত ৫২ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এ দিকে যারা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির জন্য ইকবালকে দিয়ে এ কাজ করিয়েছে তাদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছে কুমিল্লার সব ধর্মের প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।