ডেস্ক রিপোর্ট

১১ অক্টোবর ২০২১, ১২:৫৬ অপরাহ্ণ

এবার কি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ছে পোল্যান্ড!

আপডেট টাইম : অক্টোবর ১১, ২০২১ ১২:৫৬ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ব্রিটেনের পর এবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ছাড়তে পারে পোল্যান্ড- এমন গুঞ্জন ক্রমশই ভিত্তি পাচ্ছে। অনেকেই বলতে শুরু করেছে, পোলেক্সিট আসন্ন।

বিবিসি বলছে, কিছু কিছু বিষয়ে ইইউ আইনের বিধান এবং ইউরোপীয় আদালতের রায়ই চূড়ান্ত। সদস্য দেশগুলোর সরকার ও আদালতকে তা মেনে নিতে হয়।

কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই মৌলিক নীতির প্রশ্নেই ইইউ জোটের সঙ্গে পোল্যান্ডের বিরোধ চরমে পৌঁছেছে।

পোল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালত বৃহস্পতিবার এক রায়ে বলেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মূল চুক্তির কিছু ধারার সঙ্গে পোলিশ আইনের কোনো সামঞ্জস্য নেই।

এই রায়ের মাধ্যমে পোল্যান্ডের সর্বোচ্চ আদালত পক্ষান্তরে ইউরোপীয় আইন এবং ইউরোপীয় আদালতের শ্রেষ্ঠত্বের বিধান প্রত্যাখ্যান করলো।

মানবাধিকার বা সমকামী অধিকারের মতো কিছু ইস্যুতে পোল্যান্ডের সরকারের সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরেই ব্রাসেলসের টানাপোড়েন চলছিল। সেই বিরোধে এখন নতুন মাত্রা যোগ হলো।

যেসব মৌলিক নীতি ইউরোপীয় জোটের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়, তাকে পোলিশ প্রধানমন্ত্রী মোরাভিয়েস্কির সরকার যেভাবে চ্যালেঞ্জ করছে তা নজিরবিহীন।

ফলে উদ্বেগ বাড়ছে যে ব্রিটেনের মতো পোল্যান্ডও কি ইউরোপীয় জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথ ধরছে? ইতিমধ্যেই পোল্যান্ডে ব্রেক্সিটের মতো ‘পোলেক্সিট’ শব্দটি উচ্চারিত হতে শুরু করেছে।

ইউরোপীয় জোটের দেশগুলোতে পোল্যান্ডের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ শুরু হয়েছে। পোলিশ সাংবিধানিক আদালতের রায়ের পর ফ্রান্স বলছে, ইইউ জোট থেকে পোল্যান্ডের প্রস্থান এখন ‘সত্যিকারের একটি ঝুঁকি’।

শুক্রবার ফরাসি এবং জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক যৌথ বিবৃতিতে পোলিশ সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদের প্রধান একটি শর্ত হচ্ছে- ‘অভিন্ন কিছু মূল্যবোধ ও রীতিনীতিকে শর্তহীনভাবে এবং অক্ষরে অক্ষরে মানতে হবে এবং এটি শুধু নৈতিক অঙ্গীকার নয়, এটি একটি আইনি অঙ্গীকারও বটে’।

ইউরোপীয় কমিশন হুঁশিয়ার করেছে পোল্যান্ডের বিরুদ্ধে তারা তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করবে। কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভর ডেন লেইন বলেছেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ পোলিশ নাগরিকদের যেসব সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে, তা রক্ষা করা আমাদের প্রধান একটি অগ্রাধিকার।’

প্রধানমন্ত্রী মোরাভিয়েস্কি এবং পিআইএস দলের ক্ষমতাধর চেয়ারম্যান ও উপ-প্রধানমন্ত্রী জারোস্ল কাজনিস্কি অবশ্য বলেছেন, পোল্যান্ডকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের করে আনার কোনো উদ্দেশ্যই তাদের নেই।

তিনি বলেন, ইইউপন্থী ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে বিরোধী দলগুলো এই ‘ফেক নিউজ’ ছড়াচ্ছে।

তবে পোল্যান্ডে এমন মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, যারা মনে করেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের কারণে তাদের দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

তাই সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছে বিরোধীরা। ইউরোপীয় কাউন্সিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টুস্ক, যিনি পোল্যান্ডের প্রধান বিরোধী সিভিক কোয়ালিশনের প্রধান, সাংবিধানিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ডাক দিয়েছেন তিনি।

টুস্ক বলেন, ‘ইউরোপ থেকে পোল্যান্ডকে বের করে আনার যে পরিকল্পনা জারোস্ল কেজনিস্কি করেছেন, তা বাস্তবায়নের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। আমরা যদি এখন চুপ করে থাকি, তাহলে কেউ তাকে ঠেকাতে পারবে না।’

কেজনিস্কির দুই ঘনিষ্ঠ রাজনীতিক- মারেক সাসকি এবং রিজার্ভ টেরলেসকি প্রকাশ্যে ইইউ বিরোধী মনোভাব উসকে দিচ্ছেন।

গত মাসে সাসকি ইউরোপীয় কমিশনকে ‘দখলদারি’ বলে বর্ণনা করে এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বলেন।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন পিআইএস’র সংসদীয় দলের প্রধান টেরলেসকি বলেন, ব্রিটেন দেখিয়ে দিয়েছে যে কীভাবে জোট থেকে বের হয়ে গিয়ে ‘ব্রাসেলসের স্বৈরতন্ত্র এবং আমলাতন্ত্রকে’ পরাজিত করা যায়।

তিনি বলেন, পোল্যান্ড ইইউতে থাকতে চায়। তবে বিরোধ নিষ্পত্তি না হলে ‘চরম সমাধানের’ পথে নিতে হবে।

অনেক পর্যবেক্ষক বলছেন, ইইউ বাজেট থেকে পোল্যান্ড যত টাকা এখন পাচ্ছে তার চেয়ে যখন তাদেরকে বেশি দিতে হবে, তখন দেশটি জোট থেকে বেরিয়ে যাবে এবং তারই পাঁয়তারা এখন শুরু হয়েছে।

অবশ্য আবার এটাও হতে পারে, বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়ে দিয়ে ব্রাসেলসের কাছে থেকে যত সম্ভব সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে পোলিশ সরকার।

শেয়ার করুন