ডেস্ক রিপোর্ট
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: মহান শিক্ষা দিবস উপলক্ষে ছাত্র সমাবেশ থেকে সর্বজনীন গণতান্ত্রিক বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার লড়াইয়ের চেতনাকে শানিত করার আহবান জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট। আজ শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আয়োজিত ছাত্র সমাবেশ থেকে এই আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।
শিক্ষার বেসরকারিকরণ-বাণিজ্যিকীকরণ প্রতিহত করা, শিক্ষাঙ্গনে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা ও করোনাকালের সকল বেতন ফি মওকুফ করা এই তিন দফা সামনে রেখে আয়োজন করা হয় শিক্ষা দিবসের এই কর্মসূচি।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় আল কাদেরী জয়ের সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স এর সঞ্চালনায় ছাত্র সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, “করোনাকালে শিক্ষার সংকট অন্য যেকোন সময়ের তুলনায় অনেক গুণ বেশি। কিন্তু এই পুরো সময় জুড়ে রাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল নির্লিপ্ত। আর এই নির্লিপ্ততার কারণেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের দিক দিয়ে বাংলাদেশ শীর্ষে। নানান নিয়ম নীতি দেখিয়ে শাসক গোষ্ঠী এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে স্তব্ধ করতে চায়। কিন্তু নিয়ম যখন হয় জনবিরোধী, লুটপাটকারীর সহযোগী, তখন সেই নিয়ম ভাঙ্গা শিক্ষিত মানুষের কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়। আর সেজন্যই শাসক শ্রেণী চায় না সকলে শিক্ষিত হোক। শাসক শ্রেণী এই কারণেই তাদের মসনদ টিকিয়ে রাখতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে চাটুকারি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে।
কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, “আমাদের দেশ বহু শিক্ষানীতি দেখেছে। পরাধীন দেশে মজিদ খান শিক্ষানীতি, স্বাধীন দেশে শরীফ খান শিক্ষানীতি, কুদরত-ই-খুদা শিক্ষানীতি, শামসুল হক শিক্ষানীতি প্রভৃতি। এই নীতিগুলো নামে ভিন্ন হলেও লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে তারা এক। আর তা হল, সকল মানুষের জন্য শিক্ষা নয়। শিক্ষা পাবে শুধু মুষ্টিমেয় সম্পদশালী লোকজন। সকল মানুষ শিক্ষা পেলে তাদের লুটপাটের বিরুদ্ধে আন্দোলন হবে, অনিয়মের বিরুদ্ধে মানুষ রুখে দাঁড়াবে। তাই তাদের শিক্ষানীতি হল শিক্ষাকে সংকুচিত করার নীতি। তার বিরুদ্ধেই যুগে যুগে এই দেশের ছাত্র সমাজ লড়াই করেছে সর্বজনীন বিজ্ঞানভিত্তিক সেক্যুলার একই পদ্ধতির শিক্ষার অধিকারের জন্য।”
কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, “আজ গোটা দেশ শাসক শ্রেণীর কাছে জিম্মি। শিক্ষার্থীরাও তার বাইরে নয়। লুটেরা ধনিক শ্রেণীর স্বার্থ রক্ষার জন্যই এই সরকার ক্ষমতা আকড়ে ধরে রেখেছে। আজকে তাদের বিরুদ্ধে জনগণের পক্ষে আন্দোলন সংগঠিত করা ছাত্র সমাজের ঐতিহাসিক দায়িত্ব। সেজন্য শহীদ মোস্তফা, বাবুল, ওয়াজিউল্লাহর আত্মত্যাগের শিক্ষাকে তাদের ধারণ করতে হবে।”
সমাবেশ শুরুর আগে একটি মিছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, টিএসসি, শহীদ মিনার প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যে এসে শেষ হয়।