ডেস্ক রিপোর্ট
২০ আগস্ট ২০২১, ১০:২০ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: সাংবাদিক হত্যা, নারীদের কাজে যোগ দিতে না দেওয়া, দেশ ত্যাগে জড়ো হওয়াদের ওপর গুলি- গত কয়েকদিন ধরে আফগানিস্তানে তালেবানের এমন অনেক রক্তপাত ও সহিংসতা প্রত্যক্ষ করছে বিশ্ব। যদিও প্রথম সংবাদ সম্মেলন সববিরোধীদের ক্ষমা এবং মিডিয়া ও নারীদের স্বাধীনতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এই গোষ্ঠী। মনে হয়েছিল তালেবান আগের তুলনায় বদলে গেছে, বিশেষ করে নারীদের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণে পরিবর্তন এসেছে।
‘কেউই নিরাপদবোধ করছে না’
তালেবান শাসনে জীবন কেমন জানতে চাইলে এক আফগান নারী বলেন, কেউই নিরাপদবোধ করছে না, তালেবানের মুখ থেকে বের হওয়া কিছু কেউ বিশ্বাস করে না। তালেবানের বদলে যাওয়া নিয়ে আমার দৃঢ় সন্দেহ রয়েছে। আফগান জনগণের মূল্যবোধ তাদের নেই।
২০ বছর বয়সের এই নারী আরও বলেন, গণতন্ত্র তালেবানে মানসিকতায় নেই। আমরা মনে করছি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘ তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছে তাই তারা এসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
পুরুষের তত্ত্বাবধানে নারী
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে সাক্ষাৎকার দেওয়া অপর এক নারী বলেন, তালেবান বলছে মেয়েরা স্কুলে যেতে পারবে। কিন্তু তারা স্কুলে যাওয়ার পর তালেবান অভিযোগ করছে, মেয়েকে স্কুলে দিতে হবে একজন পুরুষ আত্মীয়কে। মেয়েরা একা স্কুলে যেতে পারছে না। তাদের একজন পুরুষ পথপদর্শক রাখতে হচ্ছে।
তিনি তুলে ধরেন একটি ঘটনার কথা। যে ঘটনায় এক রিকশা চালককে মারধর করা হয়েছে পুরুষ আত্মীয় ছাড়া একজন নারীকে বহন করার জন্য।
‘তালেবান বদলায়নি’
এক সংবাদ সম্মেলনে তালেবান দাবি করেছিল, তারা বছর আগের সংগঠন নেই। কিন্তু দেশটির একজন বিখ্যাত নারী ব্যক্তিত্ব ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, তালেবান বদলায়নি এবং কেউ এক মুহূর্তের জন্য নিরাপদবোধ করছে না।

আফগান নারীরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, তারা খারাপ। বাস্তবতা হলো, আগের চেয়ে তারা এখন বেশি শক্তিশালী। তারা বর্বর।
তিনি আরও বলেন, তারা প্রতিশোধ নিচ্ছে। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে এবং অনেকে মোবাইল ফোনও দেখছে।
তালেবান ক্ষমতা দখল করার পর নিজের পরিচয় গোপন রেখেছেন বলেও জানান এই নারী। কাবুল বিমানবন্দরে পৌঁছার চেষ্টা করলেও তাকে তালেবান যোদ্ধারা ফিরিয়ে দিয়েছে এবং তার স্বামীকে রাইফেলের বাট দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
‘হয়ত আত্মহত্যা করা লাগবে’
কাবুল ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী ও নিপীড়িত হাজরা সম্প্রদায়ের সদস্য আশঙ্কা করছেন তিনি যেসব স্বপ্ন দেখছিলেন সবকিছু এখন বিপদের মধ্যে রয়েছে।
তার কথায়, আমার সম্মান, আমার গর্ব, এমনকি মেয়ে হিসেবে আমার অস্তিত্ব, আমার জীবন- সবকিছু বিপদের মধ্যে রয়েছে।
এই শিক্ষার্থী জানান, ধর্ষণ করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মেয়েদের খোঁজার কথা তিনি শুনেছেন। তারা যদি আমার বাড়িতে আসে হয়ত আত্মহত্যা করতে হবে। আমি বন্ধুদের সঙ্গেও কথা বলেছি। তারাও একই কথা ভাবছে। তালেবানদের হাতে পড়ার চেয়ে মৃত্যুই ভালো।

তিনি আরও বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কাগজ ও নথি পুড়িয়ে ফেলেছি। আমার সব অর্জন ও সনদও বাকি রাখিনি। বারান্দায় এগুলো পুড়িয়েছি আমি। আমার অনেক বই রয়েছে, আমি সেগুলো পছন্দ করি। আমাকে এসব বই লুকিয়ে রাখতে হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, দেশটিতে এখন ১৩ ও ১৪ বছরের মেয়েরা বোরকা পরছে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে