ডেস্ক রিপোর্ট
১৩ জুলাই ২০২১, ১:৫৯ পূর্বাহ্ণ
মোশারফ হোসাইন নান্নু ::
দ্বিতীয় পর্যায়ে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু ভয়াবহ রূপ লাভের প্রায় একমাসেরও অধিক সময় অতিবাহিত হয়েছে। এখনো সংক্রমণ উর্ধ্বমুখী। ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট বাংলাদেশে যাতে ছড়িয়ে পরতে না পারে সেজন্য বিশেষজ্ঞগণ প্রথম থেকেই সতর্ক করলেও সরকারের উদাসীনতা, দায়িত্বহীনতা ও অব্যবস্থাপনার্ জন্য তা প্রায় সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রথম থেকেই সরকার যদি কার্যকর লকডাউন, দ্রুত ও পর্যাপ্ত পরীক্ষা, কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং এবং চিকিৎসার পরিধি বাড়ানোসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতেন তাহলে পরিস্থিতি মোকাবেলা সম্ভব হতো। কিন্তু সরকার সে পথে হাঁটেননি। এমনকি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দূর্নীতি বন্ধেও সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
প্রথম ঢেউয়ের সময় গ্রামে সংক্রমণ তুলনামূলক কম ছিল। দ্বিতীয় পর্যায়ে সংক্রমণ গ্রামে ৫০% এর বেশি। গ্রামে ঘরে ঘরে মানুষের করোনা উপসর্গ দেখা দিয়েছে। অথচ করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসার ন্যূনতম সুযোগও গ্রামে এমনকি উপজেলা পর্যায়েও নেই। কিছু উপজেলায় সপ্তাহে ২/৩ দিন সীমিত পরিসরে করোনা পরীক্ষার স্যাম্পল সংগ্রহ করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। চিকিৎসার কিছু সুযোগ বিভাগীয় ও জেলা শহরে থাকলেও প্রধানত তা ঢাকা কেন্দ্রিক। করোনা পরীক্ষা ক্ষেত্রেও একই অবস্থা দৃশ্যমান। দেশে করোনা পরীক্ষার ১২৮ টি আরটি-পিসিআর মেশিনের ৮৯ টি ঢাকায়। অবশিষ্ট ৩৯ টি বিভাগীয় ও জেলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা জেলা শহরে। গ্রামের অধিকাংশ মানুষের জেলায় বা বিভাগীয় শহরে গিয়ে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই। সর্দি, কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টসহ করোনা উপসর্গ নিয়ে গ্রামের মানুষ দুর্বিষহ সময় অতিবাহিত করছেন এবং অনেকেই চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ করছেন। যাদের সামর্থ্য আছে তাঁরাও শহরে গিয়ে রোগী ভর্তির কোন উপায় না পেয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাড়িতেই চিকিৎসা করাতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অক্সিজেনের অভাবে এই মৃত্যুর দায় সরকার কোনভাবেই এড়াতে পারেন না।
এমতাবস্থায় গ্রামের মানুষ যাবে কোথায়?
অপরদিকে অপরিকল্পিতভাবে লকডাউনের কারণে শ্রমজীবী ও দরিদ্র জনগণের সংকট চরমে। খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত না করে মানুষকে ঘরে আবদ্ধ থাকতে বলা অমানবিক। অথচ সরকার তা আমলে নিচ্ছেন না। তাই, করোনা মহামারিকালীন দুর্যোগে মোকাবেলায় জরুরি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছে নিম্নলিখিত দাবীসমূহ উত্থাপন করছি।
১। জরুরি ভিত্তিতে গ্রাম পর্যায়ে করোনা টেস্টের ব্যবস্থা করুন।
২। হাসপাতালে সিট সংখ্যা ও চিকিৎসার পরিধি বৃদ্ধিসহ পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ, হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা ও আইসিইউ বেডের সংখ্যা বৃদ্ধি করুন।
৩। উপজেলা/ইউনিয়ন পর্যায়ে জরুরি ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর মেডিকেল কোরের সহযোগিতায় ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন করুন।
৪। প্রাপ্তবয়স্ক সকল নাগরিককে টিকার আওতায় এনে দৈনিক ১০ লক্ষ টিকা প্রদানের উদ্যোগ নিন।
৫। শ্রমজীবী ও দরিদ্র মানুষকে ১ মাসের খাদ্য ও নগদ অর্থ প্রদান করুন।
৬। মহামারি মোকাবেলায় জনপ্রতিনিধিসহ রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে যুক্ত করে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ ও কার্যক্রম পরিচালনা করুন। যুবসমাজকে দিয়ে টিম গঠন করে জনসচেতনতামূলক কাজ পরিচালনা করুন।