ডেস্ক রিপোর্ট
১৪ জুন ২০২১, ৮:০৪ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয়ভাবে গার্ড অব অনার দেওয়ার ক্ষেত্রে নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিকল্প চেয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি।
এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে এ প্রস্তাব প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে আজ ১৪ জুন ২০২১ এক বিবৃতি প্রদান করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর কেন্দ্রীয় সভাপতি রওশন আরা রুশো এবং সাধারণ সম্পাদক শম্পা বসু।
বিবৃতিতে বলা হয়, পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুর পর গার্ড অব অনার দেওয়ার ক্ষেত্রে নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিকল্প চায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। কমিটি বিকল্প ব্যক্তি নির্ধারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে। গতকাল ১৩ জুন ২০২১ জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। সুপারিশে বলা হয়, ‘সাধারণত নারীরা জানাজায় অংশ নেন না। জানাজার সঙ্গে ধর্মীয় অনুভূতির একটি বিষয় আছে। এটি নিয়ে সমাজে অনেকে প্রশ্ন তোলেন। তাই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গার্ড অব অনার দেওয়ার ক্ষেত্রে যেখানে নারী ইউএনও আছেন, সেখানে বিকল্প একজন পুরুষ কর্মকর্তা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বা এ ধরনের কোনো কর্মকর্তাকে বিকল্প রাখা যেতে পারে।’ বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সংসদীয় কমিটির এ প্রস্তাব নারীর জন্য অবমাননাকর শুধু নয়, মুক্তিযুদ্ধের ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক চেতনা ও সংবিধানবিরোধী।
নেতৃবৃন্দ বলেন, গার্ড অব অনার আর জানাজা এক বিষয় নয়। গার্ড অব অনার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি রাষ্ট্রের সম্মান প্রদর্শনের একটি রীতি, কোন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান কার্যকলাপ নয়।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সংবিধানের ২৮ (১) অনুচ্ছেদে আছে, ‘কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদে বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবে না’; সংবিধানের ২৮ (২) অনুচ্ছেদে আছে, ‘রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী পুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন’।
নেতৃবৃন্দ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সংবিধান রক্ষার শপথ গ্রহণ করে আইন প্রণয়নের ক্ষমতাধারী সংসদ সদস্যগণ কিভাবে সংবিধান বিরোধী সুপারিশ করতে পারেন? এবং আরও দুঃখজনক নারী পুরুষের মিলিত অংশগ্রহণে যে মুক্তিযুদ্ধ; যার মূল চেতনায় নারী পুরুষের সমতার গণতান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের কথা বলা হয়েছে; সেই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এমন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী সুপারিশ করা হয়েছে। যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিকদের ক্ষুব্ধ ও আহত করেছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, এ ধরনের সুপারিশ নারীর ক্ষমতায়ন ও অগ্রযাত্রার পথে বাধা। সমাজে নারীকে অধস্তন করে রাখার সামন্তবাদী পশ্চাদপদ দৃষ্টিভঙ্গিকেই সহযোগিতা করবে এই প্রস্তাব।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যার উদ্দেশ্যে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলে পরিমণি নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এবং গণমাধ্যমে বিচার চেয়েছেন। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও অমিসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে সাভার থানায় মামলা করেছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। নেতৃবৃন্দ এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
নেতৃবৃন্দ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এর আগেও দেখা গেছে নারী নির্যাতনকারী অর্থ ও ক্ষমতার সাথে যুক্ত থাকলে সে ঘটনার বিচার হয় না। বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি একটি মামলায় আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী হিসেবে প্রধান আসামি; হওয়ার পরও তিনি গ্রেফতার-ই হননি। আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে জন্মদিনে বাসায় ডেকে এনে ধর্ষণ করেও জামিনে ছাড়া পেয়ে যায় ।
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী, সংবিধান পরিপন্থি ও নারীর প্রতি অবমাননাকর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সংসদীয় কমিটির প্রস্তাব প্রত্যাহারের এবং নায়িকা পরীমনিকে নির্যাতনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়িদের বিচার দাবি করেন ।