ডেস্ক রিপোর্ট

২৬ মে ২০২১, ৩:৫০ অপরাহ্ণ

বরিশালে চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে মামলা করায় বাদীর দোকান উচ্ছেদ, বাসদের নিন্দা

আপডেট টাইম : মে ২৬, ২০২১ ৩:৫০ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

বরিশাল প্রতিনিধি:: বরিশালে চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে মামলা করায় কাশিপুর বাজারে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক উদ্দেশ্যমূলকভাবে মামলার বাদী গোলাম রসুলের দোকানসহ ৮টি দোকান উচ্ছেদ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই উচ্ছেদের নিন্দা জানিয়েছে বরিশাল জেলা বাসদ।

আজ বুধবার (২৬ মে) এক যুক্ত বিবৃতিতে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল- বাসদ বরিশাল জেলার আহবায়ক ইমরান হাবিব রুমন ও সদস্য সচিব ডা: মনীষা চক্রবর্তী আওয়ামীলীগের চাঁদাবাজ রিপনের বিরুদ্ধে মামলা করায় কাশিপুর বাজারে সিটি কর্পোরেশনকে ব্যবহার করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে গোলাম রসুলের দোকানসহ ৮টি দোকান উচ্ছেদ ও দোকানের সমস্ত মালামাল লুট করার তীব্র নিন্দা জানান।

নেতৃবৃন্দ বলেন, গোলাম রসুল বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সদস্য ও ২৮ নং ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি। তিনি কাশিপুরে হলুদ ইজিবাইক শ্রমিকদের কাছ থেকে অবৈধ্য চাঁদা-বিটবাণিজ্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন এবং হলুদ অটোর শ্রমিকদের সংগঠিত করে এই বিটবাণিজ্য ঠেকাতে ইজিবাইক চালক সংগ্রমি কমিটি গঠন করেছিলেন। কিছুদিন আগে কাশিপুরের চিহ্নিত চাঁদাবাজ বিটবাণিজ্যের হোতা মো: রিপন চাঁদা না তুলতে পেরে তার সাঙ্গপাঙ্গসহ গোলাম রসুলের উপর হামলা করে। ফলশ্রুতিতে গোলাম রসুল বাদী হয়ে গত ৩০শে মার্চ এয়ারপোর্ট থানায় রিপন মাঝিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন যে মামলায় গত ১৭ মে রিপনকে গ্রেফতার করা হয়।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ১৭ মে রিপনকে গ্রেফতার করার পর আওয়ামী লীগের মহানগরের শীর্ষ নেতারা থানা ঘেরাও করে রিপনের মত চাঁদাবাজের মুক্তি চেয়েছেন। রিপন মুক্তি না পাওয়ায় আওয়ামী লীগের ওয়ার্ডনেতারা গোলাম রসুলকে মামলা প্রত্যাহারের হুমকি দেন নতুবা কাশিপুর বাজার থেকে তার দোকান সরিয়ে নিতে বলেন। সর্বশেষ গতকাল ২৫শে মে রিপন জেলা আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পাবার পর আজ ২৬শে মে কাশিপুরে গোলাম রসুলের ফলের দোকানসহ ৮টি দোকান উচ্ছেদ করা হয় এবং এই গরীব দোকানদারদের সমস্ত মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় চাঁদাবাজী মামলার আসামী ফুটবল হাবিবের নেতৃত্বে এই অসহায় দোকানদারকে শারীরীকভাবে লাঞ্চিতও করা হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, পূর্ব ঘোষিত কোন নোটিশ ছাড়া সিটি কর্পোরেশনের এই উচ্ছেদ অভিযান নি:সন্দেহে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। গোলাম রসুলের দোকানের পাশেই আরো ২৫-৩০টি মাছ ও ফলবিক্রেতার দোকান ছিল যা উচ্ছেদ করা হয়নি। এমনকি কাশিপুর বাজারে রাস্তার পাশে সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে পাকা ভবন করে আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কার্যালয় নির্মাণ করা হয়েছে। এমনিতেই করোনাকালে শহরের কোথাও মানবিক কারণে কোন হকার উচ্ছেদ করা অত্যন্ত নিষ্ঠুরতার পরিচয় বা এইধরনের কোর উ”্ছদে অভিযান চলমানও নেই। একজন চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে মামলা করায় সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক মামলার বাদীর দোকান ভেঙে মূলত চাঁদাবাজকেই রক্ষা করা হল। নেতৃবৃন্দ সিটি কর্পোরেশনের এই পক্ষপাতমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা জানান ও এই সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হবার জন্য জনগণের প্রতি আহবান জানান।

শেয়ার করুন