ডেস্ক রিপোর্ট

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ২:১৪ অপরাহ্ণ

৩০ সেকেন্ডেই মোটরসাইকেল উধাও করে তারা

আপডেট টাইম : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৪ ২:১৪ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক: বাসার সামনে মোটরসাইকেল রেখে মিনিট পাঁচেকের জন্য ভেতরে গিয়েছিলেন মনিরুল ইসলাম। বাসা থেকে বের হয়ে দেখেন তার মোটরসাইকেলটি নেই। সিসিটিভি ফুটেজে দেখেন তিন সদস্যের একটি দল মাত্র ত্রিশ সেকেন্ডেই নিয়ে গেছে মোটরসাইকেলটি।

সম্প্রতি ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় বেড়েছে মোটরসাইকেল চোর চক্রের তৎপরতা। ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেল চোর চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার ও চারটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ।

রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) চোর চক্রের চার সদস্যকে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়। তারা হলেন- ময়মনসিংহ নগরীর শহিদুল ইসলামের ছেলে মো. আরিফুল ইসলাম (৩০), রমজান আলীর ছেলে পিয়াল হাসান (২৫), আজিজুল ইসলামের ছেলে আসাদুল ইসলাম (৩০) এবং ব্রাহ্মনবাড়িয়া সদর উপজেলার সাইদ মিয়ার ছেলে মুছা মিয়া (৩৫)। তাদের কাছ থেকে চারটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, নগরীর ব্রহ্মপল্লীর হিরু মিয়ার গলির বাসিন্দা মনিরুল ইসলামের বাসার সামনে থেকে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাত ৮ টা থেকে ৮ টা ১০ মিনিটের মধ্যেই বাসার সামনে থেকে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যায় চোরচক্র। বিষয়টি কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশকে জানালে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে। মনিরুল ইসলামের মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় তিনি বাদি হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় চোর চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে গত শনিবার থানায় মামলা করেন।

শনিবার রাতে গাজীপুর জেলার জয়বদেবপুর থানার সিড়ির চালা কাইয়াপাড়া এবং ব্রাহ্মনবাড়িয়ার কসবা থানার গোপীনাথপুর বংশীপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় চক্রের চার সদস্যকে।

চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ রেকর্ড অনুযায়ী চক্রের সদস্য আরিফুলের বিরুদ্ধে চারটি, পিয়াল হাসানের বিরুদ্ধে পাঁচটি, আসাদুলের বিরুদ্ধে তিনটি ও মুছা মিয়ার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে।

কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইন উদ্দিন বলেন, চোর চক্রের সদস্যরা সংঘবদ্ধ হয়ে কাজগুলো করে। মাত্র ৩০ সেকেন্ডেই মোটরসাইকেল নিয়ে তারা পালিয়ে যায়। তাদের কাছে থাকা এক ধরনের মাস্টার চাবি দিয়ে মোটরসাইকেলের তালাকে বিকল করে ফেলে। চক্রটি দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন জায়গায় মোটরসাইকেল চুরি করে আসছিল।

তিনি আরও বলেন, চক্রটি ভুয়া নাম ঠিকানা ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করে মোটরসাইকেল চুরি করতো। গ্রেপ্তার চারজনকে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হলে শুনানি না করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন আদালত । আন্ত:জেলা চোর চক্রে আরও যারা জড়িত তাদের শনাক্ত করতে কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান ওসি।

শেয়ার করুন