ডেস্ক রিপোর্ট

২৯ অক্টোবর ২০২৩, ১১:৪৯ অপরাহ্ণ

‘২৮ অক্টোবর’ সুযোগে সিকৃবির নিয়োগ পরীক্ষা!

আপডেট টাইম : অক্টোবর ২৯, ২০২৩ ১১:৪৯ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক: রাজনীতিতে যখন ‘২৮ অক্টোবর’ নিয়ে শঙ্কা, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) তখন এই সুযোগে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। গত ২৫, ২৬ ও ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়েছে কর্মচারী পদের নিয়োগ পরীক্ষা। বিভিন্ন পদে আবেদনকারীদের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়ে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও নিরাপত্তা প্রহরী পদে আবেদনকারীদের পরীক্ষা না নেওয়া, পরীক্ষার খাতা না দেখার অভিযোগও উঠেছে।

পরীক্ষা গ্রহণের মাত্র ঘণ্টাখানেক আগে স্থগিত করা হয় কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষা। রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে ২৮ অক্টোবরের ডামাডোলকে কাজে লাগিয়ে নিয়োগ পরীক্ষার নামে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ খোদ সিকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জামাল উদ্দিন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে, কয়েক কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরীক্ষা শেষে উপাচার্য দাবি করেন, ‘নিয়োগে বিভিন্ন অভিযোগ থাকেই। সব নিয়োগই এমন হয়।’

অভিযোগ উঠেছে, উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জামাল উদ্দিন ভূঁইয়া তার বলয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের আবেদন করার সুযোগ করে দিতেই ২০১৯ সালের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পুনর্নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৪ ও ১২ ফেব্রুয়ারি এবং ১৮ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন পদে দরখাস্ত আহ্বান করে। ওই বছরের জুলাই মাসে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তারপর ২০২০-২১ সালেও বেশ কয়েকটি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।

তবে ২০১৯ সালের ১৮ জুন ৯৩টি কর্মচারী পদের নিয়োগ পরীক্ষা ২০২০ সালের ১০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু ওই সময় কর্মচারী পরিষদ ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আন্দোলনের মুখে পরীক্ষার আগের দিন নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করে প্রশাসন। বিগত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পরীক্ষা নিয়েই চলতি বছর ১১, ১৩ ও ১৮ এপ্রিল সেকশন অফিসার, স্টোর অফিসার/প্রশাসনিক কর্মকর্তা, কেয়ারটেকার, বাবুর্চি, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তা প্রহরীসহ বিভিন্ন পদে আবারও দরখাস্ত আহ্বান করা হয় এবং ২০১৯ ও ২০২৩-এর আবেদনকারীদের পরীক্ষা নেওয়া হয় গত ২৫, ২৬ ও ২৭ অক্টোবর।

তবে এবার আর বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী পরিষদ ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কেউ আন্দোলনে নামেননি। কারণ নানা সুযোগ-সুবিধা দিয়ে কর্মচারী পরিষদ ও ছাত্রলীগের নেতাদের নিজের বলয়ে উপাচার্য নিয়ে এসেছেন বলে কথা উঠেছে।

এ বিষয়ে উপাচার্য জামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘এই নিয়োগের জন্য তিন-চার বছর আগে থেকে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এটার পুনঃবিজ্ঞপ্তি নিয়ম মেনেই মাঝখানে আবার দেওয়া হয়েছিল। যখন একটি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়, এরপর ছয় মাসের মধ্যে যদি নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ না হয়, তখন চাকরির জন্য নতুন আরও অনেকে উপযুক্ত হয়। আবেদন করতে নতুনদের একটা সুযোগ দিতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘একটি নিয়োগে এখন দুই-আড়াই বছর আগে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে, এখন ইন্টারভিউ করলে নতুন যারা উপযুক্ত হয়েছেন তারা তো দরখাস্ত করার সুযোগ পেত না। যে বিজ্ঞপ্তি আগে ছিল, আমি সেভাবেই পুনঃবিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলাম। কিন্তু পরে ইউজিসির হিসাবে দেখা গেল যে, সব পদের অনুমোদন নেই। এজন্য উনারা আবার সব পদ অনুমোদন না দিয়ে অনেক কেটে দিয়েছেন। নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে আউটসোর্সিংয়ে নেওয়ার সরকারি নিয়ম হয়েছে। তাই ওই পদগুলোতে সরাসরি নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ নেই।’

এদিকে গত ২৭ অক্টোবর চারটি কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও অনিবার্যকারণ দেখিয়ে পরীক্ষা স্থগিত করে সিকৃবি প্রশাসন। আবেদনকারীদের অভিযোগ, এই পদগুলোতে নিয়োগ দিতে কয়েকজনকে কথা দিয়ে রেখেছেন সিকৃবি উপাচার্য। তাই পরীক্ষা স্থগিত করেছেন; পরবর্তীতে নামেমাত্র পরীক্ষা নিয়ে তার পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দেবেন।

আবেদনকারী সুনামগঞ্জের শাল্লার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার চাকরির বয়স শেষ হওয়ার আগে এই একটি পরীক্ষাই ছিল। কেন পরীক্ষা স্থগিত করা হলো- এ বিষয়ে সরাসরি উপাচার্যের দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো কারণ জানা যায়নি।’

নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ পরীক্ষার আবেদনের জন্য জমা দেয়া টাকার কী হবে, প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, ‘তিন হাজারের ওপরে আবেদনকারী ছিল। অনেকে একাধিক পদে আবেদন করেছে। মৌখিক পরীক্ষায় পুরাতন এবং নতুন নিয়োগের কতজন অংশগ্রহণ করেছেন সেটা আলাদা করা যায়নি, কারণ রোল নম্বর ধারাবাহিকভাবে করা হয়েছে। এটা আমরা সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করব, সেখানে যে সিদ্ধান্ত হয়, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।’

নিজস্ব বলয়ে প্রশাসন সাজানো প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, ‘ম্যানেজমেন্টেতো নিজের লোক থাকতে হয়। একসঙ্গে তো আর সবাইকে ম্যানেজমেন্ট দেওয়া যায় না। যারা এই দায়িত্বে নেই তারাই হয়তো হিংসার বশীভূত হয়ে এসব কথা বলে।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সূত্র মতে, উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জামাল উদ্দিন ভূঁইয়ার নিয়োগ বাণিজ্য নতুন নয়। এর আগে ২০১০ সালে তিনি যখন সিকৃবিতে চাকরিরত ছিলেন তখনো তার বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের কারণে ২০১০ সালে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন তৎকালীন উপাচার্য ড. আওয়াল। সূত্র: খবরের কাগজ।

শেয়ার করুন