ডেস্ক রিপোর্ট

১ ডিসেম্বর ২০২৩, ৯:২৫ অপরাহ্ণ

মজুরি যা বাড়ে তারচেয়ে বেশি বাড়ে জিনিসপত্রের দাম: নজরুল ইসলাম খান

আপডেট টাইম : ডিসেম্বর ১, ২০২৩ ৯:২৫ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক: শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরির আন্দোলন করলে কারখানা বন্ধের ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘শ্রমিকের মজুরি যা বাড়ে জিনিসপত্রের দামসহ জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ে তার চেয়ে বেশি। সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ। শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ।’

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক শ্রমিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। গার্মেন্টস শ্রমিক হত্যার বিচার, হতাহতদের ক্ষতিপূরণ, মামলা প্রত্যাহার, ন্যূনতম মজুরি ২৫ হাজার টাকা ঘোষণার দাবিতে এ সমাবেশ করে ‘সম্মিলিত শ্রমিক পরিষদ’।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আন্দোলনরত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে আগুন দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। অথচ নিজের কারখানায় শ্রমিকরা কখনো আগুন দেয় না। আগুন দিয়ে শ্রমিকদের আন্দোলন নস্যাৎ করতে চায়।

সরকারকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকলে শ্রমিকের কথা ভাবতো। এই সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন শ্রমজীবী মানুষের সমস্যার সমাধান হবে না। জনগণকে ভোটের অধিকার ফেরত দিতে হবে।’

ঐক্যবদ্ধভাবে আরও শক্তিশালী লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘জোর করে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। যারা আন্দোলন করে তাদের মামলা দিয়ে কারাবন্দি করে রেখেছে। গায়েবি মামলা বন্ধ করে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আগামী দিনের লড়াই ভোট ও ভাতের অধিকারের লড়াই। গণতন্ত্রের লড়াইয়ে বিএনপি অবশ্যই বিজয়ী হবে। দমন-পীড়ন করে কখনো গণবিরোধী সরকার টিকে থাকতে পারেনি, এ সরকারও পারবে না।’

বিএনপির এই নেতা দাবি করেন, দেশে গণতন্ত্র নেই বলে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজেদের অধিকার থেকে বঞ্চিত। অতীতেও মানুষ তাদের অধিকার হারিয়েছে, আবার তা আন্দোলনের মাধ্যমে ফিরিয়ে এনেছে, শিগগিরই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে মানুষ এবারও তাদের অধিকার আদায় করবে।

এ সময় চলমান আন্দোলন দমনে সরকার বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর যে দমন-পীড়ন অব্যাহত রেখেছে তার নিন্দা জানান এই বিএনপি নেতা। খালেদা জিয়াসহ গ্রেপ্তার সব নেতা-কর্মীর মুক্তির দাবিও জানান তিনি।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘সরকার ভোট ছাড়া ক্ষমতায় থাকতে দেশের আন্তর্জাতিক বাজার ধ্বংসের তৎপরতা চালাচ্ছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশ ও শ্রমিকরা বিপদের মুখে পড়বে।’

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, নির্বাচনে না গেলে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলার মামলায় জেলে নেয়ার ভয় দেখানো হয়েছিল গণঅধিকার পরিষদকে। নির্বাচনে নিতে সরকারবিরোধীদের ব্ল্যাকমেইল করে নির্বাচনের নাটক শুরু করেছে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দীন মাহমুদ স্বপন প্রমুখ।

শেয়ার করুন