ডেস্ক রিপোর্ট

৩১ মে ২০২৪, ৯:৪৭ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের জালে এক হালি গোল দিলো চাইনিজ তাইপে

আপডেট টাইম : মে ৩১, ২০২৪ ৯:৪৭ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক: বড় দলগুলোর বিপক্ষে খেলতে নামলে বাংলাদেশের মেয়েদের কী পরিণতি হয়, তা দেখা গেছে গত বছর সেপ্টেম্বরে হাংজু এশিয়ান গেমসে। জাপানের কাছে ৮ ও ভিয়েতনামের কাছে ৬ গোল খাওয়ার পর দক্ষিণ এশিয়ার দেশ নেপালের বিপক্ষে করেছিল ১-১ গোলে ড্র। সেই বাংলাদেশই গত ডিসেম্বরে ঘরের মাঠে সিঙ্গাপুরকে উড়িয়ে দিয়েছিল ৩-০ ও ৮-০ গোলে।

ছোট প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলে বড় জয় পাওয়ার চেয়ে বড় দল এনে হেরে যাওয়াকেই শ্রেয় মনে করেছে বাফুফে। যে কারণে নতুন বছরে প্রথম প্রীতি সিরিজে ১০০ ধাপ এগিয়ে থাকা চাইনিজ তাইপেকে আতিথেয়তা দিয়েছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম দিনই চাইনিজ তাইপের মেয়েরা পার্থক্য বুঝিয়ে দিয়ে সহজ জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর কিংস অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে চাইনিজ তাইপে। ৩-০ গোলে এগিয়ে প্রথমার্ধ শেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে অতিথি দল যোগ করেছে আরো ১ গোল। সারা বছর ট্রাফে অনুশীলন করা সাবিনারা ঘাসের মাঠে খেলতে নেমে এক কথায় অসহায় আত্মসমর্পণই করেছেন চাইনিজ তাইপের কাছে।

বাংলাদেশ দলে যোগ হয়েছেন বেশ কয়েকজন নতুন ফুটবলার। সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়া দলের আঁখি, স্বপ্নারা জাতীয় দল ছেড়েছেন। মারিয়া মান্ডা, কৃষ্ণা নেই ইনজুরির কারণে। কিছু উঠতি খেলোয়াড় যোগ হয়েছেন জাতীয় দলে। এই ম্যাচে অভিষেক হয়েছে দুইজনের।

সাবিনাদের অভিষেক হয়েছে দেশের ফুটবলের নতুন ভেন্যু কিংস অ্যারেনায়। আর নতুন কোচ ইংলিশ পিটার বাটলারের এ ম্যাচ দিয়ে অভিষেক হয়েছে লাল-সবুজ দলের ডাগআউটে।

অনেক নতুনের মধ্যে নতুন ছিল প্রতিপক্ষও। আগে কখনো চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে ম্যাচ খেলেনি বাংলাদেশ। নতুন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অভিষেকটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। যদিও দুই দলের যে পার্থক্য তাতে ফল নিয়ে অসন্তুষ্টির কিছু সেই। কয়েকদিন আগে লিগ শেষ করা বাংলাদেশের মেয়েদের কাছে আরেকটু ভালো ফুটবল প্রত্যাশা ছিল এই যা।

চাইনিজ তাইপে ম্যাচটি নিজেদের করে নিয়েছে প্রথম ২৬ মিনিটে ৩ গোলে লিড নিয়ে। চার গোলের দুটিতে দায় আছে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকারের। তার পায়ের মাঝ দিয়ে বল বেরিয়ে গেলে বাংলাদেশের জালে প্রথমবার বল পাঠান চাইনজি তাইপের সু ইউ। ১৮ মিনিটে সু ইয়ুনের কর্নার থেকে সু শিন ইউ হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।

২৬ মিনিটে ব্যবধান ৩-০ করেন সু ইউ। ৫৬ মিনিটে আবার ভুল করে বসেন আফঈদা। লি ই ইয়েনের শট আফঈদার পায়ে লেগে চলে যায় বক্সের সামনে ফাঁকা জায়গায় দাঁড়ানো চু ইউংয়ের কাছে। কোনো ভুল করেনি তিনি। রুপনা চাকমাকে ফাঁকি দিয়ে বল চলে যায় জালে।

৬২ মিনিটে বাংলাদেশ প্রথমবার গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল। বাম দিক দিয়ে মনিকা চাকমার নেওয়া শট বাইরে চলে যায় ক্রসবারে লেগে।

প্রথমার্ধে বাংলাদেশ কোণঠাসা অবস্থায় থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। ৫ টি পরিবর্তের ফলে দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের খেলার গতি বেড়ে যায়। যে কারণে, বেশ কয়েকবার স্বাগতিকরা আতঙ্ক ছড়াতে পেরেছে প্রতিপক্ষের সীমানায়। আত্মবিশ্বাসটাও বাড়িয়ে নিতে পেরেছিলেন নতুনরা। ৩ জুন দ্বিতীয় ম্যাচে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়লেই তা হবে সাবিনাদের জন্য অর্জন।

শেয়ার করুন