ডেস্ক রিপোর্ট

১ ডিসেম্বর ২০২৩, ১০:২৮ অপরাহ্ণ

পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে একদলীয় শাসন কায়েম করতে চাইছে সরকার: নুর

আপডেট টাইম : ডিসেম্বর ১, ২০২৩ ১০:২৮ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক: সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দল-উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্র সরকার কারও কথা শুনছে না বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, তারা বিরোধী দল বিহীন কম্বোডিয়া মার্কা নির্বাচন করতে চাইছে। বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মীদের বাসাবাড়িতে হামলা-মামলার মাধ্যমে রাজনীতির মাঠ শূন্য করে পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ দেশে একদলীয় শাসন কায়েম করতে চাইছে।

শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) বিকেলে বিজয়নগর পানির ট্যাংকি থেকে পল্টন এলাকা প্রদক্ষিণ করে ‘শিকল ভাঙার গান’ শিরোনামে কবি কাজী নজরুল ইসলামের অমর গানের মিছিল করে বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ। এতে অংশ নিয়ে নুর এসব কথা বলেন।

নুরুল হক নুর বলেন, শুধু বিদেশিদের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না, জনগণকে নিয়ে রাজপথে নামতে হবে। এ আন্দোলনে পেছনে ফেরার কোনো সুযোগ নেই, রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের চূড়ান্ত বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ব্রিটিশ আমলে, পাকিস্তান আমলে, বঙ্গবন্ধুর সময়ে ৭৪-এ, এমনকি ৯০-এ এরশাদের সময়েও প্রতিবাদী গান, কবিতা লেখা হতো। আর আজ কবি, শিল্প, সাহিত্যিকরা গোলামির দাসত্ব বরণ করছে, দালালি করছে।

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি বলেন, এ সরকারের সময়ে যদি কাজী নজরুল ইসলাম বেঁচে থাকতেন, তাহলে তাকে কারাগারে বিদ্রোহী কবিতা, গান লেখার জন্য কারাগারে যেতে হতো, রবীন্দ্রনাথ বেঁচে থাকলে ‘নৌকা ডুবি’ উপন্যাসের জন্য কারাগারে যেতে হতো। এ সরকারের হাতে ছাত্র, শিক্ষক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতাকর্মী কেউ নিরাপদ নয়। কাজেই সবাইকে রাজপথে নামতে হবে। শুধু ঘরে-বসে লাইক, কমেন্ট করলে আর ইউরোপ ইউরোপ আমেরিকার দিকে চেয়ে থাকলে পরিবর্তন হবে না।

দলের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খান বলেন, ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে কাজী নজরুল ইসলাম শিকল ভাঙার গান লিখেছেন আর এখনকার কবি- সাহিত্যিকরা তেল মেরে নৌকায় উঠতে ব্যস্ত। আগে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক বিকল্প হতো, কিন্তু এখন কবি, নায়ক-গায়করা প্রতিবাদ করে না। সবাই তেল মেরে সুবিধা পেতে মরিয়া।

তিনি বলেন, আজ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন অনেক দেশে বিরোধী দল ছাড়াও নির্বাচন হয়। তার মানে কি? আওয়ামী লীগ যে বিরোধী দল ছাড়া একতরফা নির্বাচন করছে, সেটি নিজেরাই স্বীকার করে নিয়েছে। ’১৪ সালে একতরফা নির্বাচন করার জন্য রওশন এরশাদ আওয়ামী লীগকে সহযোগিতা করেছিল। তার ফল এবার তিনি পেয়েছেন। যারা ফ্যাসিবাদের দালালি করবে, তাদের পরিণতি এমনই হবে।

বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মনজুর মোর্শেদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নাদিম হাসানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য আবু হানিফ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন, যুব অধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মুনতাজুল ইসলাম, ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আদীব, শ্রমিক অধিকার পরিষদের সভাপতি আব্দুুর রহমান প্রমুখ।

শেয়ার করুন