ডেস্ক রিপোর্ট

৫ জুন ২০২৪, ১১:২৫ অপরাহ্ণ

নারীর গৃহস্থালি কাজের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে মহিলা ফোরাম স্মারকলিপি

আপডেট টাইম : জুন ৫, ২০২৪ ১১:২৫ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক: নারীর গৃহস্থালি কাজের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, আর্থিক মূল্য নির্ধারণ এবং নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি করার দাবিতে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম চট্টগ্রাম জেলা শাখার স্মারকলিপি পেশ।

সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম চট্টগ্রাম জেলা শাখার উদ্যোগে নারীর গৃহস্থালি কাজের আর্থিক মূল্য নির্ধারণ, নারীর কাজের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি করার দাবিতে অর্থমন্ত্রনালয় বরাবর জেলা প্রশাসক এর মাধ্যমে স্মারকলিপি পেশ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল ১১ টায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি জুবায়ের বীনার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাসদ চট্টগ্রাম জেলা শাখার ইনচার্জ আল কাদেরী জয়, মহিলা ফোরাম চট্টগ্রাম জেলা শাখার সদস্য সুপ্রীতি বড়ুয়া, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রাম নগর শাখার সভাপতি মিরাজ উদ্দিন।সমাবেশ পরিচালনা করেন সদস্য উম্মে হাবিবা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ” গৃহস্থালি কাজ ছাড়া কোন পরিবার ও সমাজ কল্পনা করা যায় না। আর গৃহস্থালি কাজের সিংহভাগই করে থাকেন পরিবারের নারী সদস্যরা। ঘরে সবার জন্য খাবার তৈরি, জামা-কাপড়, তৈজসপত্রসহ ঘরদোরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, শিশুদের লালন-পালন করা, স্কুলে আনা-নেয়া, পড়ানো, বয়স্ক ও রোগীদের সেবা প্রদানসহ গৃহ ব্যবস্থাপনার প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ নারীরা করে থাকেন। গৃহস্থালি কাজ ছাড়া মানুষের শারীরিক, মানসিক, সাংস্কৃতিক জীবন বিকশিত হওয়া তো দূরের কথা টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রে এ কাজের কোন স্বীকৃতি নেই, মর্যাদা নেই, এমনকি এ কাজকে তাচ্ছিল্য করা হয় সবসময়। সমাজে একমাত্র নারীরাই মজুরিবিহীন গৃহস্থালি ও সাংসারিক কাজগুলো করে থাকে।

বক্তারা বলেন, ২০১৪ সালে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির গবেষণায় দেখা গেছে যে নারীর কাজের ৭৮- ৮৭ শতাংশই অর্থনৈতিক হিসাবে আসে না। যেমন, কাপড় ধোয়া, রান্না করা, ঘর পরিষ্কার করা ইত্যদি। তাদের গবেষণায় বেরিয়ে আসে নারীদের গৃহস্থালি কাজের আর্থিক মূল্য বছরে ১১ লক্ষ কোটি টাকার উপরে। অতচ এর কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও আর্থিক মূল্য বিবেচনাই করা হয় না।ঘরে বাইরে নারী যে কাজ করে তার পুরোটা হিসাবে আনলে এবং আর্থিক মূল্য বিবেচনা করলে জিডিপিতে নারী পুরুষের অবদান সমান হবে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানোর পরও নারীর গৃহস্থালির কাজের আর্থিক মূল্য হিসাব করার জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কিছু আশ্বাস বাণী ও সুপারিশ ছাড়া তেমন কোন উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি। গৃহিনী নারীদের বা গৃহস্থালির কাজের অবদানের মূল্যায়ন না হওয়ায় নারীরা তার প্রাপ্য সম্মান থেকে বঞ্চিত হন এবং অসহায় বোধ করেন; নির্যাতন-বৈষম্যের শিকার হন। আমরা মনে করি, নারীর শ্রমের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গী ও নারীদের সামাজিক অবস্থা পরিবর্তনে রাষ্ট্র বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। রাষ্ট্র নারীদের শ্রমের মূল্যায়ন করার মধ্য দিয়ে তার কাজের স্বীকৃতি দিতে পারে।”

শেয়ার করুন