ডেস্ক রিপোর্ট

২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ

তীব্র শ্রমিক সংকট, চারদিনের কর্মসপ্তাহ চালু করল জার্মানি

আপডেট টাইম : ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৪ ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ

শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউরোপের দেশ জার্মানিতে চলতি মাস থেকেই পাঁচদিনের পরিবর্তে চারদিনের কর্মসপ্তাহ শুরু হয়েছে। দেশটির কয়েক ডজন কোম্পানি পরীক্ষামূলকভাবে নতুন এই কর্ম সপ্তাহ শুরু করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে জার্মানিতে নতুন কর্মসপ্তাহের বিষয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

দেশটির ইংরেজি সংবাদমাধ্যম ডি ডব্লিউ বলেছে, ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশটির অন্তত ৪৫টি কোম্পানি ও সংস্থা চলতি মাস থেকেই অর্ধেক বছরের জন্য ৪ দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করেছে। সাপ্তাহিক কর্মদিবস একদিন কমে গেলেও এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা পুরো বেতনই পাবেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বর্তমানে দক্ষ কর্মী খুঁজে পেতে রীতিমতো লড়াই করছে জার্মানি। তীব্র শ্রমিক সংকটের মাঝেই দেশটির কোম্পানিগুলো নতুন কর্মসপ্তাহ চালুর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অলাভজনক সংস্থা ফোর ডে উইক গ্লোবালের (ফোরডিডব্লিউজি) সহযোগিতায় পরামর্শক সংস্থা ইন্ট্রাপ্রেনিওরের নেতৃত্বে জার্মানিতে নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া ছয় মাসের নতুন এই কর্মসূচির লক্ষ্য কেবল কর্মীদের সুস্থ ও কর্মমুখী করে তোলা নয়, বরং আরও উৎপাদনশীল করে তুলতে পারে কি না, তা খুঁজে বের করা।

সাপ্তাহিক কর্মদিবস একদিন কমানোর পক্ষে আন্দোলন করে আসা মানবাধিকার কর্মীরা বলেছেন, ৪ দিনের কর্মসপ্তাহ কর্মীদের উৎপাদনশীলতা বাড়াবে এবং তা দেশের দক্ষ শ্রমিক ঘাটতি দূর করতে সহায়তা করবে।

জার্মানিতে কর্মীদের কঠোর পরিশ্রম আর দক্ষতার জন্য দীর্ঘকালের খ্যাতি রয়েছে। তারপরও গত কয়েক বছরে দেশটিতে কর্মীদের উৎপাদনশীলতা ব্যাপক হ্রাস পেয়েছে। চার দিনের কর্মসপ্তাহ বাস্তবায়নের পাইলট প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া জার্মানির ইভেন্ট কোম্পানি সোলিডসেন্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সোরেন ফ্রিকি ব্লুমবার্গকে বলেছেন, ‘‘আমি পুরোপুরি নিশ্চিত যে, নতুন কাজের বিনিয়োগে সুফল মিলবে। কারণ এতে কর্মীদের সুস্থতা এবং উৎসাহ বাড়বে। এর ফলে পরবর্তীতে দক্ষতাও আরও বৃদ্ধি পাবে।’’

তিনি বলেন, ‘‘চার দিনের সপ্তাহ যদি কাজ করে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে আমাদের কিছুই অপচয় হবে না।’’

ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, জার্মান শ্রমবাজারের বৃহত্তর পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। যেখানে দক্ষ শ্রমিকের অভাব কোম্পানিগুলোকে পদ পূরণের জন্য চাপের মুখে ফেলেছে। দক্ষ কর্মীর ঘাটতির পাশাপাশি দেশটিতে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি চলছে। এর মাঝেই কর্মীদের মজুরি বৃদ্ধি এবং মহামারী চলাকালীন বিধি-বিধানে যে নমনীয়তা ও স্বকীয়তা এনেছিল কোম্পানিগুলো তা বজায় রাখতে বাধ্য হয়েছে।

জার্মানিতে কর্মক্ষেত্রের ভারসাম্যহীনতা নিয়োগকর্তা-কর্মীদের চিন্তা আরও বাড়িয়ে তুলছে। জার্মানির ট্রেন চালকরা বর্তমানে ছয় দিনের ধর্মঘট পালন করছেন। সরকারের এই পরিবহন খাতে মজুরি হ্রাস ছাড়াই কর্মসপ্তাহ ৩৮ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ৩৫ ঘণ্টা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

দেশটির নির্মাণ খাতের কর্মীদের সংগঠন তাদের ৯ লাখ ৩০ হাজার কর্মীর মধ্যে বেশিরভাগেরই ২০ শতাংশের বেশি বেতন বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে। যদিও দেশটির কিছু অর্থনীতিবিদ এমন পদক্ষেপ দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতির হার আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন।

সূত্র: ব্লুমবার্গ।

শেয়ার করুন