ডেস্ক রিপোর্ট

১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৯:১১ অপরাহ্ণ

চোখের জলে শিল্পী পাগল হাসানকে সর্বস্তরের মানুষের শেষ বিদায়

আপডেট টাইম : এপ্রিল ১৯, ২০২৪ ৯:১১ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক: আসমানে যাইও নারে বন্ধু…, জীবনখাতায় প্রেম কলঙ্ক, ‘ছাড়িয়া যাইওনারে বন্ধু, মায়া লাগাইয়া…….. এমন জনপ্রিয় গানসহ অসংখ্য গানের তরুণ গীতিকার ও সংগীত শিল্পী মতিউর রহমান হাসান ওরফে পাগল হাসানকে চোখের জলে শেষ বিদায় জানিয়েছেন সুনামগঞ্জের শিল্প সংস্কৃতিসহ শহরের সর্বস্তরের মানুষ।

বৃহস্পতিবার বিকালে শিল্পী পাগল হাসানের লাশ সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির প্রাঙ্গণে নিয়ে আসলে হৃদয় বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শিল্পকলা একাডেমির প্রাঙ্গনের আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠে। অনেকের চোখের পাতা ভিজে যায়। বিভিন্ন শ্রেণি পেশার হাজারো মানুষ তাকে চোখের জলে শেষ বিদায় জানান।

সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে শিল্পী পাগল হাসানকে সম্মান জানিয়ে ও তার আত্মার মাগফিতার কামনায় দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর তার মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান, সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ প্রশাসন, সুনামগঞ্জ পৌরসভা, সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি, সদর উপজেলা শিল্পকলা একাডেমিসহ শহরের সকল সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন।

এসময় সংস্কৃতিকর্মীরা বলেন,‘গীতিকার ও সংগীত শিল্পী পাগল হাসান ছিলেন হাছন রাজা, রাধারমন, আব্দুল করিম ও দূর্বীন শাহ’র উত্তরসূরি। তার গানগুলি অনেক জনপ্রিয় ও হৃদয়া ছোয়া। তার মৃত্যুতে সংগীত জগতের যে ক্ষতি হয়েছে তা অপূরনীয়। তার অকাল মৃত্যুতে সুনামগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ’

এই দুর্ঘটনায় আহত আরও তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে সুনামগঞ্জের ছাতক-দোয়ারাবাজার সড়কের সুরমা সেতুর টোলপ্লাজা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

সংগীত শিল্পী পাগল হাসানকে বহনকারী সিএনজিটি দুরমে মুচরে গেছে এবং ঘটনাস্থলেই পাগল হাসান ও ছাত্তার মিয়ার মৃত্যু হয়েছে। শিল্পী পাগল হাসান ও ছাত্তার মিয়ার বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের শিমুলতলা গ্রামে। নিহত সংগীত শিল্পী পাগল হাসানের স্ত্রী ও দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। উদীয়মান তরুণ সংগীত শিল্পী পাগল হাসানের মৃত্যুর ঘটনায় সুনামগঞ্জের শিল্প সংস্কৃতিসহ শহরের সর্বস্তরের লোকজন।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে সুনামগঞ্জের ছাতক-দোয়ারাবাজার সড়কের সুরমা সেতুর টোলপ্লাজা এলাকায় এই দুর্ঘটনায় গীতিকার ও সংগীত শিল্পী মতিউর রহমান হাসান ওরফে পাগল হাসান (৩৫) ও তার প্রতিবেশি ছাত্তার মিয়া (৪৫) সড়ক নিহত হন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন, শিমুলতলা গ্রামের আব্দুল কাদিরের ছেলে লায়েছ মিয়া (৩০), ননদু মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩৪) ও সিএনজি চালক সিরাজ আলীর ছেলে রুপন মিয়া (৩০)।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে সংগীত শিল্পী পাগল হাসানসহ একই গ্রামের ৫ জন সিএনজি অটোরিকশায় করে ছাতক শহরে গিয়ে চা-নাস্তা করেন। এরপর সুরমা সেতু এলাকা দেখে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় ছাতক থেকে একটি বাস দোয়ারাবাজারের দিকে যাচ্ছিল। পথে সুরমা সেতুর টোলপ্লাজার এলাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই মারা যান সংগীত শিল্পী পাগল হাসান ও ছাত্তার মিয়া। এদিকে নিহত হাসানের মামা রবিউল হাসান জানিয়েছেন, তার ভাগ্না শিল্পী পাগল হাসান গান গেয়ে দোয়ারাবাজার থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে দুর্ঘটনার শিকার করে মারা গেছেন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে প্রথম ছাতক ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা নিহতদের উদ্ধার করে। পরে পুলিশ দুর্ঘটনা কবলিত বাস (মৌলভীবাজার-জ- ১১-০০৪০) জব্দ করে। তবে ঘটনার পরপরই বাসের চালক ও সহযোগি পালিয়ে গেছে।

শিমুলতলা গ্রামের বাসিন্দা আলা উদ্দিন বলেন,‘ আমরা শুনেছি বৃহস্পতিবার সকালে শিল্পী পাগল হাসান ও তার বন্ধুরা সিএনজিতে করে ছাতকে গিয়ে চা-নাস্তা করতে গিয়েছিল। এরপর সুরমা সেতু দেখে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় সুরমা সেতুর টোলপ্লাজার এলাকায় বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই দুইজন মারা যায় এবং ৩ জন আহত হয়। নিহত ২ জন ও আহত ৩ জন একে অপরের প্রতিবেশি ও বন্ধু। ’

কালারুকা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সামছু মিয়া বলেন,‘ বৃহস্পতিবার সকালে শিল্পী পাগল হাসান ও তার কয়েকজন বন্ধু সিএনজি নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। শিল্পী পাগল হাসানের অকাল মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।’

শেয়ার করুন