ডেস্ক রিপোর্ট

১ জুন ২০২৪, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ

কুরবানির চাহিদার চেয়ে বেশি পশু প্রস্তুত নরসিংদীতে

আপডেট টাইম : জুন ১, ২০২৪ ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ

শেয়ার করুন

বোরহান মেহেদী, নরসিংদী প্রতিনিধি : সামনে কোরবানির ঈদকে ঘিরে প্রতি বছরের মতো এবারও কোরবানির পশু মোটাতাজা করেছেন নরসিংদীর কৃষক ও খামারিরা। হরমোন ইনজেকশন এবং রাসায়নিক ওষুধ প্রয়োগ না করে দেশীয় খাবার খাইয়ে এসব পশু মোটাতাজা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খামারিরা।

সীমান্ত দিয়ে দেশের বাইরের পশু আমদানি বন্ধ থাকায় ঈদের হাটে এসব পশু বিক্রি করে লাভবান হওয়ার আশা করছেন খামারিরা। তবে গরুর খাদ্যের দাম বাড়ার কারণে পশু লালন-পালন খরচ বেড়েছে বলে জানান তারা। জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে জেলায় কোরবানিযোগ্য পশুর চাহিদার বিপরীতে বেশি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে।

জেলার শিবপুর, মনোহরদী, পলাশ ও রায়পুরার বিভিন্ন খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসন্ন কোরবানির ঈদকে ঘিরে প্রতি বছরের মতো এবারও গরু-মহিষসহ কোরবানির পশু মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে। ঈদ ঘনিয়ে আসায় পশুর যত্নে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও গরুর খামারিরা। অনেকে ছয় থেকে ১১ মাস আগে দেশের পশুর বিভিন্ন হাট ঘুরে গরু, মহিষ ও ছাগল কিনে লালনপালন শুরু করেন। খামারীদের পাশাপাশি লাভের আশায় পারিবারিকভাবেও অনেক কৃষক গরু, ছাগল ও মহিষ মোটাতাজা করছেন।

বিশেষ করে গরু মোটাতাজা করা হয়েছে দেশীয় খাবার খৈল, কুড়া, চালের খুদ, ছোলা, সয়াবিন, ভুষি, কাঁচা ঘাস ও খড় খাইয়ে। মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক ও পশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কোনো ওষুধ তারা গরুকে খাওয়ান না। কারণ তাতে গরুর জন্য মৃত্যু ঝুঁকি হতে পারে। যেকোনো মুহূর্তে গরু মারা গেলে লোকসানের আশঙ্কা থাকে। তবে গো খাদ্যের দাম বাড়ার কারণে পশুর লালন পালন খরচ বেড়েছে বলে জানান খামারিরা।

জেলা প্রাণি সম্পদ কার্যালয়ের তথ্য মতে, ঈদকে সামনে রেখে নরসিংদী জেলার ছয় উপজেলায় ছোট বড় ছয় হাজার ৭৬২ জন খামারি দেশীয় পদ্ধতিতে কোরবানির পশু মোটাতাজা করছেন। এর মধ্যে ষাড় ৩১ হাজার ৪০৭টি, বলদ ৯ হাজার ৮৫০টি, গাভী পাঁচ হাজার ৪৯২টি, মহিষ এক হাজার ৫১৮টি, ছাগল ৯ হাজার ৬৫১টি ও ভেড়া দুই হাজার ৯১৮টি। এর বাইরেও পারিবারিকভাবে আনুমানিক ১০/১২ হাজার কৃষক ১-২টি করে কোরবানির পশু বিশেষ করে গরু ছাগল মোটাতাজা করছেন।

নরসিংদী জেলার অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে সরবরাহ করা হবে এসব পশু। দেশীয় খাবার খাওয়ানো ও ক্ষতিকর ওষুধ প্রয়োগ না করায় কোরবানির পশুর হাটে বাজারে এসব গরুর চাহিদা থাকে বেশি। করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে লকডাউন ও সরকারের কঠোর নির্দেশনার কারণে সীমান্ত দিয়ে দেশের বাইরের পশু আমদানি এখনও পর্যন্ত বন্ধ থাকায় এবার পশু বিক্রি করে লাভবান হওয়ার আশা করছেন খামারিরা।

জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান খান বলেন, নরসিংদী জেলায় ৫৫ হাজার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে। এ বছর ছয় হাজার ৭৬২টি খামারে গরু ও মহিষসহ ৬০ হাজার ৯১০টি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত হয়েছে। এছাড়াও কৃষকসহ ব্যক্তিগতভাবে গৃহপালিত ১০ থেকে ১২ হাজার পশু রয়েছে। মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার না করে দেশীয় খাবার খাইয়ে পশু মোটাতাজা করার জন্য কৃষক ও খামারীদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বাজারে দেশীয় গরুর চাহিদা থাকায় আশা করছি কৃষকরা লাভবান হবেন।

শেয়ার করুন