ডেস্ক রিপোর্ট

২৯ মে ২০২৪, ১০:৪৫ অপরাহ্ণ

কর্তৃত্ববাদী শাসন হটাতে বামপন্থীদের উত্থান ঘটাতে হবে: স্মরণসভায় নেতৃবৃন্দ

আপডেট টাইম : মে ২৯, ২০২৪ ১০:৪৫ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক: বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমেদের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকীতে সিপিবি আয়োজিত স্মরণসভায় নেতৃবৃন্দ বলেছেন, দেশে এখন কর্তৃত্ববাদী শাসন চলছে। জনগণের ভোটাধিকার নেই। দুর্বৃত্তায়িত অর্থনীতি দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির জন্ম দিয়েছে। লুটপাট, বিদেশে অর্থপাচার, ব্যাংক লুট সীমাহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। জনগণের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। এই অবস্থা চলতে পারে না। কর্তৃত্ববাদী শাসন হটাতে বামপন্থীদের উত্থান ঘটাতে হবে।

আজ ২৯ মে ২০২৪ বুধবার বিকেলে কমরেড মণি সিংহ সড়কস্থ মুক্তিভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য কমরেড শাহীন রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন।

প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে স্মরণসভায় সিপিবি নেতৃবৃন্দ বলেন, আদর্শহীনতার বিপরীতে কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ ছিলেন সততা, আদর্শনিষ্ঠার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সজ্জন ও বিনয়ী হিসেবে পরিচিত কমরেড জাফর আদর্শ ও নীতির প্রশ্নে দৃঢ় ছিলেন। শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষের মুক্তির জন্য তিনি জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধ, অসাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে, স্বাধীন দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, তেল-গ্যাসসহ জাতীয় সম্পদ রক্ষার আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। নেতৃত্ব দিয়েছেন নিপীড়িত ক্ষেতমজুর, চা-শ্রমিক ও ‘শব্দকর’ জনগোষ্ঠীর মুক্তির লড়াইয়ে। বিলোপবাদীদের পার্টি ধ্বংসের অপচেষ্টা রুখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করেছেন। তিনি কর্তৃত্ববাদী শাসন বিরোধী লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, কর্তৃত্ববাদী শাসন হটানোর পাশাপাশি বিদ্যমান ব্যবস্থাও বদলাতে হবে। রাজনীতির দুর্বৃত্তায়িত ধারা রুখে দাঁড়াতে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে গণআন্দোলন, গণসংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে। দেশের সংকট মোচনে বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প গড়ে তুলতে কমরেড জাফরের ভ‚মিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর বিপ্লবী জীবন থেকে নতুন প্রজন্মের বিপ্লবীদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। কমরেড জাফরের বিপ্লবী স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেই তাঁর প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে হবে।

স্মরণসভার শুরুতে প্রয়াত কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমেদের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ এবং দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে প্রয়াত নেতার শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

উল্লেখ্য, কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমেদের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে দেশের বিভিন্ন জেলায় স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।

শেয়ার করুন